সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ রবিবার
মেলবোর্ন, ২ মে- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্য (এমপি) আগামী রবিবার (৩ মে) শপথ গ্রহণ করবেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়…
মেলবোর্ন, ২ মে- ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাতে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে যুক্তরাষ্ট্র। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনীহা দেখিয়েছে, আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যেই মার্কিন নীতির সমালোচনা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোটভুক্ত দেশ জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জার্মানি ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই বাহিনী থেকে পাঁচ হাজার সেনা আগামী ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে।
এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় পেন্টাগন। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই ধরনের আচরণ ও মন্তব্য ‘অনুপযুক্ত’ এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাদের মতে, ইউরোপের কাছ থেকে যে ধরনের সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থেকে নানা সুবিধা ভোগ করলেও সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ সহযোগিতা করে না। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছিল ওয়াশিংটন। বিশেষ করে নৌবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু জার্মানি ছাড়াও ইতালি ও স্পেনসহ অধিকাংশ দেশই এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
এদিকে, সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান সম্ভাব্য পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর বার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যদি পাল্টা আঘাত হানার সাহস দেখায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন জবাব দেবে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে তেহরান দাবি করেছে। এ ঘটনায় রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। ইরান সরকার জানিয়েছে, আপাতত প্রেসিডেন্টসহ তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল দেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে।
এর আগে ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়, যেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ওই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ছিলেন। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইরানও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে, ফলে পুরো পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au