যুদ্ধবিরতির আগেই ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন,৬ মে- ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, এতে অন্তত ২৬ জন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত এই হামলায় পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক শহর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার গ্লাইড বোমা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্রামাতোরস্ক, জাপোরিঝিয়া ও চেরনিহিভ অঞ্চলে আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে জাপোরিঝিয়ায়, যেখানে অন্তত ১২ জন নিহত হন। ক্রামাতোরস্ক ও দনিপ্রো শহরে নিহত হয়েছেন আরও ৯ জন।
এছাড়া পোলতাভা ও খারকিভে রাষ্ট্রীয় গ্যাস স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ৩ কর্মচারী ও ২ উদ্ধারকর্মীসহ মোট ৫ জন নিহত হন। এতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা স্থানীয় জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘চরম ধৃষ্টতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধবিরতির আগে এমন আক্রমণ রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করে। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেন নির্ধারিত সময় থেকেই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে, তবে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার ও শনিবারের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও তার আগেই এ হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬৪টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন নিয়মিত ড্রোন প্রতিহত করতে পারলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় জেলেনস্কি আবারও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে উন্নত ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
সূত্র : আল জাজিরা