বাহরাইনে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ৪১ জন গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ৯ মে- ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে বাহরাইনে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,…
মেলবোর্ন, ৯ মে- বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা চুক্তিকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদক ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের নামে করা এই চুক্তি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
গত ৮ মে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি ‘কাউন্টার নারকোটিকস’ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। তবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে যৌথ গোয়েন্দা তৎপরতা, তথ্য বিনিময় এবং সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে সমন্বিত কার্যক্রমের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১০ বছর বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মাদক পাচার, অর্থপাচার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র মোকাবিলায় পারস্পরিক গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অপারেশনাল সহযোগিতা করবে। যৌথ গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে এতে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি কোনো স্থলসীমান্ত না থাকা সত্ত্বেও ‘সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘যৌথ গোয়েন্দা অভিযান’-সংক্রান্ত ধারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়লে তা দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে নতুন অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা উপস্থিতি ভারত সহজভাবে নাও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় দুই দেশ মাদক পাচারের নতুন কৌশল, রুট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠন সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান করবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং মাদক শনাক্তে ব্যবহৃত প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও বিনিময় করা হবে।
এই কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের অ্যান্টি-নারকোটিকস ফোর্স।
তবে বাংলাদেশের একটি নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআইকে না জানিয়েই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই ‘সংবেদনশীল’ চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌখিক নোটের ভিত্তিতে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়াকে অস্বাভাবিক বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে এমন একটি অঞ্চলে পাকিস্তানের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যেখানে আগে থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশ নিয়ে ভারত সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভিকে পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও আছেন এবং বিশেষ দায়িত্বে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
চুক্তি সইয়ের পর দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতা মাদক নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বাস্তবতায় এই চুক্তি ভবিষ্যতে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করে কি না, এখন সেদিকেই নজর বিশ্লেষকদের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au