স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরা করে নদী–ডোবায় ফেলেছেন স্ত্রী: পুলিশ
মেলবোর্ন, ১৬ মে- শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় জিয়া উদ্দিন সরদার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরা করে নদী ও ডোবায় ফেলে দেওয়ার…
মেলবোর্ন, ১৬ মে: বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ সিঁথি সাহা। রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক ও লোকগানের মেলবন্ধনে তিনি তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছ থেকে সংগীতের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে অশোক সাহা ও মরহুম ওহাইদুল হকের তত্ত্বাবধানে সংগীতে আরও গভীরভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন। ছায়ানট ও শমলন পরিষদ থেকে শাস্ত্রীয়, লোক ও আধুনিক গানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য নতুন কুঁড়িসহ চারটি জাতীয় পুরস্কার এবং শতাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন এই শিল্পী।

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই থেকে সংগীতের মঞ্চে, অনুপ্রেরণার নাম সিঁথি সাহা। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক পেজ থেকে
২০০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের সংকলন “কিছু বলবো বলে” অ্যালবামের মাধ্যমে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর “কল্পনা”, “গল্প পাতায়” এবং “মন বালিকা” অ্যালবামের মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। বাংলা সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইন্দো-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসবে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।
সম্প্রতি সিডনি হয়ে মেলবোর্নে আসেন জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী। সেই সময় ওটিএন বাংলার সঙ্গে একান্ত ঘরোয়া পরিবেশে নিজের সংগীতজীবন, ব্যক্তিগত সংগ্রাম, ভালো লাগা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সিঁথি সাহা। ওটিএন বাংলার দর্শকদের জন্য তুলে ধরা হলো সেই আলাপচারিতার বিশেষ অংশ।
ওটিএন বাংলা: আপনার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি?
সিঁথি সাহা: ২০১৯ সালে বাংলাদেশের আর্মি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের জনপ্রিয় পপ ও ক্লাসিক্যাল শিল্পী শাফকাত আমানাত আলীর সঙ্গে একই মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তিনি “বিন তেরে” গানটি গাওয়ার সময় হঠাৎ মাইক্রোফোন আমার হাতে তুলে দেন। এত বড় একজন শিল্পীর সঙ্গে একই মঞ্চে গান গাওয়া আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। সেই পরিবেশনাটি পরবর্তীতে ভাইরালও হয়েছিল।
ওটিএন বাংলা: আপনার সবচেয়ে প্রিয় গান কোনটি?
সিঁথি সাহা: “প্রেমেরই যখম” গানটি আমার ভীষণ প্রিয়। ঘুমপরী সিনেমায় মাহতিম শাকিবের সঙ্গে গাওয়া এই গানটির সঙ্গে আমার অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে।
ওটিএন বাংলা: এখন পর্যন্ত কোন জায়গায় গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে ভালো লেগেছে?
সিঁথি সাহা: অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা অসাধারণ ছিল। এছাড়া বেলজিয়াম ও স্পেনের বার্সেলোনাতেও গান গেয়েছি, সেখানকার দর্শকদের ভালোবাসাও আমাকে মুগ্ধ করেছে।

“মানুষ যেন আমার গান মনে রাখে” — সিঁথি সাহা। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক পেজ থেকে
ওটিএন বাংলা: সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার কথা যদি বলেন?
সিঁথি সাহা: লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে দর্শকরা আমাকে গানের সঙ্গে নাচতে বলছিলেন। কিন্তু আমি তো মূলত একজন শিল্পী, মানুষ আমার গান শুনতে আসে। বিষয়টি আমার খুব একটা ভালো লাগেনি।
ওটিএন বাংলা: জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটি ছিল?
সিঁথি সাহা: ২০২২ সাল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। হঠাৎ করেই জানতে পারি, আমার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তখন আমি অন্তঃসত্ত্বাও ছিলাম। পুরো পৃথিবী যেন মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল। কিন্তু সবার দোয়া আর নিজের মানসিক শক্তি নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছি। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই সন্তান জন্ম দিয়েছি। তবে ঈশ্বরের আশীর্বাদে এখন অনেক ভালো আছি।
ওটিএন বাংলা: সংগীতজীবনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
সিঁথি সাহা: আমার সন্তান জয়ীর জন্মের পর থেকে ওকে অনেক সময় দিতে হয়। গান এবং সংসার দুটো একসঙ্গে সামলানো মাঝে মাঝে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়।
ওটিএন বাংলা: দেশের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

একান্ত আড্ডায় জীবনের জানা-অজানা গল্প বললেন সিঁথি সাহা। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক পেজ থেকে
সিঁথি সাহা: আমি চাই, দর্শকদের জন্য কিছু ভালো গান রেখে যেতে, যেন মানুষ আমাকে মনে রাখে। পাশাপাশি পথশিশু ও ফুল বিক্রি করা ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। তাদেরকে নিরাপদ পরিবেশে এনে শিক্ষা ও সুন্দর জীবনের সুযোগ করে দেওয়ার স্বপ্ন দেখি।
ওটিএন বাংলা: নতুন করে সংসার জীবন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
সিঁথি সাহা: নতুন করে সংসার শুরু করার বিষয়ে এখনও ভয় কাজ করে। একটা ইনসিকিউরিটি অনুভব করি। আপাতত গান আর জয়ীকে নিয়েই ব্যস্ত আছি। ভবিষ্যৎ সময়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।
ওটিএন বাংলা: প্রিয় খাবার কী?
সিঁথি সাহা: মিষ্টি আমার ভীষণ পছন্দ। মিষ্টি দেখলে লোভ সামলাতে পারি না।
পরিশেষে, ওটিএন বাংলাকে সময় দেওয়ার জন্য সিঁথি সাহাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সংগীতজীবনের সাফল্য, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে তার অকপট কথাগুলো নিঃসন্দেহে দর্শকদের অনুপ্রাণিত করবে। ওটিএন বাংলার পক্ষ থেকে সিঁথি সাহার সুস্বাস্থ্য, সুখী জীবন এবং সংগীতজীবনের আরও সাফল্য কামনা করছি। তার সুর ও গান ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে, ভালোবাসায় ভরে উঠুক শ্রোতাদের হৃদয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au