২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
মেলবোর্ন, ১০ জুন- দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে…
মেলবোর্ন, ১৭ মে- ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে ক্রমেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসন। চীন সফরে গিয়ে বেইজিংয়ের সহায়তায় কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হলেও, ওয়াশিংটনে ফেরার পর দৃশ্যমান কোনো সমাধানের ইঙ্গিত দিতে পারেননি ট্রাম্প। ফলে কূটনীতি নাকি আরও সামরিক চাপ, কোন পথে এগোবে যুক্তরাষ্ট্র তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় বলেও একমত হয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং অতীতেও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিল, ফলে এটিকে বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “শি জিনপিং এই যুদ্ধ শেষ হতে দেখতে চান। তিনি সাহায্য করতে চান। তবে আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।”
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ইরান ইস্যুতে কৌশলগত মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পেন্টাগনের কিছু কর্মকর্তা আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ইরানকে চাপে ফেলতে পারে। তবে প্রশাসনের আরেক অংশ এখনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার পক্ষে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প নিজেও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, অর্থনৈতিক চাপ ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তেহরানকে সমঝোতায় আনা সম্ভব হবে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এখনো অবস্থান নরম করার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে!” পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব তিনি দেখেছেন, কিন্তু “প্রথম বাক্যটাই” তার পছন্দ হয়নি।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য এখনো আলোচনায় অগ্রগতির আশা দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তারা আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গ্যালনপ্রতি সাড়ে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রিপাবলিকান নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতির রাজনৈতিক মূল্য নভেম্বরের নির্বাচনে দিতে হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব বিকল্প খোলা রয়েছে, তবে তার প্রথম পছন্দ এখনো কূটনীতি। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল এমন একটি চুক্তিই গ্রহণ করবে যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ন্যাটোতে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত আইভো ডালডার মনে করছেন, ট্রাম্প এখন এমন একটি পথ খুঁজছেন যার মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থা ভাঙা সম্ভব হবে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী মহলও দ্রুত সমাধানের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা জানান, করপোরেট নেতাদের প্রধান বার্তা এখন একটাই-“যেভাবেই হোক, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরানকে চাপে রাখা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ক্ষতি সামাল দেওয়া—এই দুই চ্যালেঞ্জ এখন একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au