পর্নোগ্রাফি মামলায় মাওলানা মিরাজ আহমেদ গ্রেপ্তার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ মে- নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মাওলানা মিরাজ আহমে(২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম মাওলানা মিরাজ আহমেদ। তিনি এলাকায় মাসুদ রানা নামেও পরিচিত।
সোমবার সকালে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের গাড়াবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মোস্তাক বিন সুলতানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সিংড়া থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিরাজ আহমেদ এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তিনি গোপনে ওই নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী নারী সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ ও পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মোবাইলটি তদন্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পাঠানো হবে।
পুলিশের দাবি, মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা গেলে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। ভিডিওটি কোথায় কোথায় ছড়ানো হয়েছে এবং অন্য কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিরাজ এলাকায় ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে ওই নারী সামাজিকভাবে অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।