পর্নোগ্রাফি মামলায় মাওলানা মিরাজ আহমেদ গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ১৯ মে- নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার…
মেলবোর্ন, ১৯ মে- যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ইসলামিক সেন্টারের মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্যান ডিয়েগো শহরে সংঘটিত এই হামলায় মসজিদের একজন নিরাপত্তাকর্মীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। পরে হামলায় জড়িত দুই কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্যান ডিয়েগোর বৃহৎ ইসলামিক সেন্টারটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ইসলামিক সেন্টারটি মূলত একটি ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও পরিচালিত হয়। হামলার শিকার মসজিদটি স্কুল কমপ্লেক্সের অংশ এবং এটি স্যান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটি।
ঘটনার সময় ইসলামিক সেন্টারে নিয়মিত ক্লাস, ধর্মীয় কার্যক্রম ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ দুই কিশোর মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী এবং আরও দুজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। নিহত সবাই ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে হামলার সময় ইসলামিক স্কুলের কোনো শিশু বা শিক্ষার্থী হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
হামলার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, জরুরি উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পরে মসজিদ থেকে কিছুটা দূরে পার্ক করা একটি গাড়ি থেকে হামলাকারী দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের একজনের বয়স ১৭ এবং অন্যজনের বয়স ১৯ বছর।
স্যান ডিয়েগোর শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে হামলার পর দুই কিশোর নিজেদের বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি বলেন, “ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি মুসলিমবিদ্বেষ বা ঘৃণাপ্রসূত মনোভাব থেকে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।”
স্কট ওয়াল আরও জানান, হামলার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে মার্কিন ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা হামলাকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন কার্যক্রম, যোগাযোগের ইতিহাস এবং সম্ভাব্য উগ্র মতাদর্শের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করছেন। তারা আগে থেকেই কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঈদুল আজহার মাত্র কয়েক দিন আগে এমন হামলার ঘটনায় অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
স্যান ডিয়েগোর ওই মসজিদের ইমাম তাহা হাসান বলেন, “আমরা আগে কখনো এ ধরনের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। একটি উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যাপার।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখানে শান্তি, প্রার্থনা এবং নিরাপত্তার জন্য আসে। সেই জায়গাতেই যদি হামলা হয়, তাহলে তা পুরো সম্প্রদায়ের জন্য গভীর মানসিক আঘাত হয়ে দাঁড়ায়।”
হামলার পর ইসলামিক সেন্টারের সামনে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ জড়ো হয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম, ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে ঘৃণাপ্রসূত হামলার প্রবণতা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ হামলাকারীদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করছে না। তবে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au