বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ মে- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়স্বজন। তাঁদের কয়েকজন আবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিসিবির নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানিয়েছেন, তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগ ও ক্লাব ক্যাটাগরির প্রার্থীদের পরিচয় সামনে আসায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে।
জানা গেছে, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একটি করে পরিচালক পদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে তাঁরা কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন।
রংপুর বিভাগ থেকে একমাত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। রাজশাহী বিভাগ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম।
সিলেট বিভাগে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সরকারনিযুক্ত প্রশাসক। সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর হয়ে তিনি পরিচালক হওয়ার পথে রয়েছেন।
এ ছাড়া যেসব বিভাগে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানেও রাজনৈতিক পরিবারের প্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ঢাকা বিভাগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান।
চট্টগ্রাম বিভাগে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর চাচা মাঈন উদ্দিন চৌধুরী। খুলনা বিভাগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলামের ভাই শান্তনু ইসলাম।
ক্লাব ক্যাটাগরিতেও রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের আধিপত্যের বিষয়টি সামনে এসেছে। যদিও রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করেননি, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির তিন সদস্যও এই ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচন করছেন।
তাঁদের মধ্যে ইসরাফিল খসরু অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে।
এ ছাড়া ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হওয়া ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সালও পরিচালক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর বাবা আবুল কালাম কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য।
ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন ঘিরে এমন রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারিবারিক প্রভাবের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনেও রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ক্রিকেট প্রশাসনে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১২টি পদের বিপরীতে ১৮ জন, জেলা ও বিভাগ ক্যাটাগরিতে ১০টি পদের বিপরীতে ১৪ জন এবং বিভিন্ন সংস্থার ক্যাটাগরি-৩-এ একটি পদের বিপরীতে একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। ওই দিন মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আরও দুজন পরিচালক মনোনয়ন দেবে। সব মিলিয়ে ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের ভোটে নির্বাচিত হবেন বিসিবির নতুন সভাপতি।