নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ২৭ মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতার পর বাংলাদেশ সীমান্তে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফেরার আশায় শত শত মানুষের জটলা দেখা গেছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় অংশে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বহু মানুষকে ব্যাগ, ট্রলি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ প্লাস্টিক বিছিয়ে খোলা জায়গায় বসে আছেন, কেউ আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগের অপেক্ষা করছেন। একই ধরনের পরিস্থিতি সোমবারও দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের কাছে একটি অস্থায়ী ছাউনিতে প্রায় ১০০ জন অবস্থান করছেন। এছাড়া বাইরে আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অপেক্ষা করছেন। অনেকেই কয়েকদিন ধরে সেখানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের দাবি, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার জেলাভিত্তিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। এসব কেন্দ্রে অনুপ্রবেশকারী ও সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে রাখা হবে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর অবৈধভাবে ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ১২ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মালদার ইংরেজবাজার এলাকার চন্দনপার্কে স্থাপিত একটি কেন্দ্রে ৯ জনকে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন নারী এবং ছয়জন নাবালক-নাবালিকা রয়েছে। রোববার গাজোল থানার পান্ডুয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় প্রশাসন।
সীমান্তে অপেক্ষমাণ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে তারা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ ও বসবাস শুরু করেন। তাদের অনেকে নিউ টাউন, দমদম, ডানকুনি ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক বা নিম্ন আয়ের পেশায় কাজ করছিলেন।
তাদের ভাষ্য, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তারা গ্রেপ্তার বা দীর্ঘদিন আটকে থাকার আশঙ্কায় দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, সীমান্তে জড়ো হওয়া এসব মানুষের বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে। বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। বৈধ প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত সীমান্ত পারাপারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au