কেনিয়ার স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মেলবোর্ন, ৩১ মে- কেনিয়ার একটি আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৭৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। প্রাথমিক…
মেলবোর্ন, ৩০ মে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি উভয় দিক থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তির কয়েকটি শর্তও প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তুকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ রয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে স্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে দেশটি কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ করবে না। তিনি বলেন, এটি সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বাধা বা টোল ছাড়া উভয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিধিনিষেধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিতে যদি কোনো মাইন বা বিস্ফোরক ডিভাইস থেকে থাকে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে অনেক মাইন শনাক্ত ও বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে।
তিনি আরও জানান, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ শিগগিরই তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে বর্তমানে বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আবারও নিজ নিজ গন্তব্যে যাত্রা করতে পারবে এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, প্রায় ১১ মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সহযোগিতায় উদ্ধার করে ধ্বংস করবে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর মতে, এ পদক্ষেপ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করবে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এর বিরোধিতা করে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি দাবি করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিকৃতভাবে তুলে ধরেছেন, যাতে তিনি রাজনৈতিকভাবে একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়ের দাবি করতে পারেন।
ইরানি সূত্রগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আলোচনার খসড়ায় এমন কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। একইভাবে হরমুজ প্রণালিতে টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের বিষয়টিও কোনো আনুষ্ঠানিক খসড়া চুক্তির অংশ নয় বলে তারা দাবি করেছে।
তেহরানের অভিযোগ, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছেন, যেগুলো আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দেওয়ার বিষয় এবং লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
ইরানি সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হলেও ট্রাম্প সেগুলোর উল্লেখ করেননি। বরং তিনি এমন বিষয় সামনে এনেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত সামুদ্রিক পথগুলোর একটি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চললেও দুই দেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য এবং এর জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু কী, ট্রাম্পের ঘোষণাগুলোর কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং ইরান শেষ পর্যন্ত কোন অবস্থান নেয়, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের যেকোনো পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au