নিজ এলাকার জন্য রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন আসিফ-হাসনাত
মেলবোর্ন, ৩১ মে- কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক…
মেলবোর্ন, ৩১ মে- কেনিয়ার একটি আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৭৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে অগ্নিসংযোগের সন্দেহ দেখা দেওয়ায় বিদ্যালয়েরই আট শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভোরে কেনিয়ার নাকুরু কাউন্টির গিলগিল এলাকায় অবস্থিত উতুমিশি গার্লস একাডেমির একটি ছাত্রাবাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মূলত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের জন্য পরিচালিত হয়ে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুইতলা বিশিষ্ট একটি ডরমিটরি ভবন। ভবনটির উপরের তলায় থাকা ছাত্রাবাসে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ে। পরে দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত ডরমিটরি থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অগ্নিকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আটজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনাটির পেছনে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেনিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
এদিকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডরমিটরিটিতে ১২টি কক্ষ ছিল এবং সেখানে ১৩৫টি বাঙ্ক বেড স্থাপন করা হয়েছিল। ভবনটি সর্বোচ্চ ২৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য নির্মিত হলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ঠিক কতজন অবস্থান করছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর পুরো কেনিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
কেনিয়ার ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ স্কুল দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অগ্নিকাণ্ডকে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au