এক দিনে সীমান্তের ১১ পয়েন্টে ১২৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা
মেলবোর্ন, ৫ জুন- ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তের ১১টি পয়েন্ট দিয়ে অন্তত ১২৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করেছে…
মেলবোর্ন, ৫ জুন- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানায়।
নিহত বাংলাদেশির নাম মো. নুরুল আমিন (৪৪)। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান।
গত বুধবার দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার একটি বহুতল ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবনটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং ওপরের তলাগুলোতে হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হোটেলে অবস্থানরত অতিথিরা আটকা পড়েন এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া মোজাম্বিক, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, উজবেকিস্তান এবং বাংলাদেশের নাগরিকরাও হতাহতের তালিকায় রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, নিহত মো. নুরুল আমিনের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে হাইকমিশন।
হাইকমিশনের তথ্যমতে, এই অগ্নিকাণ্ডে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের দুটি পরিবার। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা দিল্লিতে গিয়েছিলেন এবং হোটেলটিতে অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার সময় তারা ভবনের ভেতরেই ছিলেন।
এর আগে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস, বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছিল, অগ্নিকাণ্ডে আহত আটজন বাংলাদেশিকে দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং আগুন কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুরো ভবন তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
দিল্লির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দেশের নাগরিক হতাহত হওয়ায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আহত বাংলাদেশিদের সার্বিক সহায়তায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au