অবসর নয়, ‘দুঃসময়ে’ দেশের মানুষের পাশেই থাকতে চান শেখ হাসিনা
মেলবোর্ন, ৯ জুন- রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার চিন্তা একসময় করলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শেখ…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- রাশিয়ার রাজনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও আর্মেনিয়ার জাতীয় নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান-এর নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দল সিভিল কনট্র্যাক্ট পার্টি। নির্বাচনে দলটি ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছে, যা দেশটির পশ্চিমমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতি জনগণের সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্ট্রং আর্মেনিয়া অ্যালায়েন্স পেয়েছে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে আর্মেনিয়া অ্যালায়েন্স অর্জন করেছে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।
নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। ভোটের আগে আর্মেনিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে রাশিয়া-এর বিরুদ্ধে। তবে সেই চাপ উপেক্ষা করেই ভোটাররা পাশিনিয়ানের নেতৃত্বে আস্থা রাখায় দেশটির ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে আজারবাইজান-এর কাছে নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে সামরিক পরাজয়ের পর এটি ছিল আর্মেনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ফলে এই ভোটকে কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রশ্নে গণরায় হিসেবেও দেখা হচ্ছিল।
বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেন, “আর্মেনিয়ার জনগণ শান্তি, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে ভোট দিয়েছে।” তিনি দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ পাশিনিয়ানকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা আর্মেনিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলোর ওপর “অভূতপূর্ব চাপ” প্রয়োগ করা হয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে।
যদিও সাম্প্রতিক জনমত জরিপে পাশিনিয়ানের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, তবুও নির্বাচনে তার দল সবচেয়ে বড় জয় তুলে নেওয়ায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন।
মোট ১৯টি রাজনৈতিক দল ও জোট এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে ভোটের ফলাফলে মাত্র কয়েকটি দলই জাতীয় পরিষদে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার মতো সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনের এই ফল আর্মেনিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইউরোপমুখী কূটনৈতিক কৌশলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au