২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ জুন- দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে টাইগাররা। চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচসেরা ভূমিকায় ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন।
এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয় এসেছিল ২০০৫ সালে। এরপর দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। অবশেষে ঘরের মাঠে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও মধ্য ও শেষের দিকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। ওপেনার সাইফ হাসান মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান। তবে আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের ভিত্তি তৈরি করেন। তামিম ৫৪ রান করে বিদায় নিলেও শান্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান।
অধিনায়ক শান্ত ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে দলের রান এগিয়ে নেন। তবে ৬৭ রান করে তিনি আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাসও মাত্র ৭ রান করে ফিরে যান। এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।
এমন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। দুজনে মিলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। হৃদয় ৩১ রান করে আউট হলেও অপর প্রান্তে ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান মোসাদ্দেক।
চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা এই অলরাউন্ডার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেন। ৭০ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও ছক্কার মার। এর আগে ওয়ানডেতে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ৫২। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংস বাংলাদেশের সংগ্রহকে ২৮৪ রানে নিয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট দুটি করে এবং হ্যাভিয়ার ব্রাটলেট একটি উইকেট শিকার করেন।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমান ফেরান মার্নাস ল্যাবুশেনকে।
মাত্র ২ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। এরপর জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রানার গতির সামনে ভেঙে যায় সেই জুটি। ইংলিস ১৯ রান করে ফিরে যান।
ব্যাট হাতে নায়ক হওয়ার পর বল হাতেও জ্বলে ওঠেন মোসাদ্দেক। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট তুলে নিয়ে কুপার কনোলিকে বোল্ড করেন। পরে ম্যাট রেনশকেও এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। ম্যাচে ৩৭ রান খরচায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন এই অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ার মধ্যক্রম ধসিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন পেসার রানা। আগুনঝরা বোলিংয়ে তিনি জশ ইংলিস, অ্যালেক্স ক্যারি, লিয়াম স্কট ও হ্যাভিয়ার ব্রাটলেটকে ফিরিয়ে দেন। ৪১ রানের বিনিময়ে চার উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি।
এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান ক্যামেরন গ্রিন। তিনি ৬৬ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্ত থেকে তেমন কোনো সমর্থন পাননি।
অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ যখন ৪২ ওভার ২ বলে ৯ উইকেটে ১৯১ রান, তখন বৃষ্টি শুরু হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খেলা আর মাঠে গড়ায়নি। ফলে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের একটি আক্ষেপও ঘুচল টাইগারদের। মিরপুরে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।