মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় দ্বীপ মজুমদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঢাকা নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র, পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং কিছু ব্যক্তিগত কাগজপত্র পাওয়া গেছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন দ্বীপ। গত শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের আগে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি কোথায় যাচ্ছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিয়ে যাননি। এছাড়া দ্বীপ সাঁতার জানতেন না বলেও পরিবার জানিয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
উদ্ধারের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ।
নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই দ্বীপ মজুমদারের মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।