হায়দ্রাবাদে আটক সাত বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে সাত বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে…
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন এক যুবলীগ নেতা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক দীর্ঘ নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ এখন নেতৃত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারছে এবং সেই কারণেই অনেক মানুষ শেখ হাসিনার ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিবন্ধে বলা হয়, ক্ষমতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, বিরোধীদের দমন করতে পারে এবং ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রকৃত নেতৃত্ব মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাসন, ষড়যন্ত্র, দমন-পীড়ন কিংবা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা নেতৃত্বকে মুছে দিতে পারে না।
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা দেশের বাইরে অবস্থান করলেও জনগণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে দেশে ফেরার এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয় নিবন্ধে।
লেখকের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ইতিহাসের একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রতিহিংসা, দমন-পীড়ন এবং প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
নিবন্ধে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গ্রেপ্তার, মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়েছে। লেখক দাবি করেন, বহু নেতাকর্মী নিজ বাড়িতে থাকতে পারছেন না এবং অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন জীবনে বাধ্য হয়েছে।
তবে এমন পরিস্থিতিতেও দলীয় কর্মীরা সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন বলে মন্তব্য করা হয় লেখাটিতে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।
নিবন্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মতো প্রকল্পের উল্লেখ করা হয়।
লেখকের দাবি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছিল এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও সামাজিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, বর্তমানে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, শিল্পকারখানা সংকটে পড়ছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধির অভিযোগও করা হয়।
লেখকের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং জাতীয় প্রয়োজন। তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় লেখক দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিভক্তি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং কারাবন্দি, নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।
নিবন্ধের শেষাংশে লেখক আশা প্রকাশ করেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আবারও বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন এবং যুবলীগ সেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সামনের সারিতে থাকবে। তাঁর ভাষায়, ঐক্য, সাহস এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সেই প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au