মাদ্রাসার নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসার নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা খোদাই করা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। অস্ত্রটি সেখানে কীভাবে এলো এবং কারা রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) র্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, বুধবার আশুলিয়া থানার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র্যাব-৪-এর সিপিসি-২ নবীনগর ক্যাম্পের একটি টহল দল গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের অভিভাবকদের অপেক্ষাকক্ষের পাশে নির্মাণাধীন ওয়াশরুমে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকদ্রব্য মজুদ করে রেখেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ওই স্থানে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ওয়াশরুমের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে থাকা একটি টয়লেটের মেঝেতে রাখা কয়েকটি ইট সরিয়ে একটি ছেঁড়া হলুদ রঙের শপিং ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পরে ব্যাগটির ভেতরে সবুজ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড .২২ বোরের গুলিসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়।
র্যাব জানায়, অস্ত্র ও গুলিগুলো উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির উৎস, মালিকানা এবং কারা এটি সেখানে রেখে গেছে, তা উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে অস্ত্রটি কোনো অপরাধী চক্র বা অসাধু ব্যক্তিরা লুকিয়ে রেখেছিল বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
এদিকে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অস্ত্রটির প্রকৃত উৎস উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।