মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিক্ষোভ
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। শিক্ষার্থীদের…
মেলবোর্ন,৩০ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বহুল আলোচিত অবকাঠামো কর্মসূচি বিগ বিল্ড প্রকল্পে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্তা অ্যালান। তবে বিরোধী দল, দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক তদন্ত কর্মকর্তাদের জোরালো দাবি সত্ত্বেও তিনি প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে রয়্যাল কমিশন (রাজকীয় তদন্ত কমিশন) গঠনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন জাসিন্তা অ্যালান। এ সময় তিনি দাবি করেন, নির্মাণ খাতের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে ভিক্টোরিয়া পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে পর্যাপ্ত ক্ষমতা রয়েছে। সরকার এসব সংস্থাকে অতিরিক্ত ক্ষমতাও দিয়েছে, ফলে আলাদা কোনো তদন্ত কমিশনের প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি নাইন নিউজপেপার্স এবং ৬০ মিনিটস-এর যৌথ অনুসন্ধানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন সিএফএমইইউ (কনস্ট্রাকশন, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড মেরিটাইম এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন)-এর দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও ভিক্টোরিয়ার বিগ বিল্ড প্রকল্পের বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলারের অর্থ গ্রহণ করে আসছিলেন অস্ট্রেলিয়ার আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত ব্যক্তি মিক গ্যাট্টো।
ফাঁস হওয়া ব্যবসায়িক নথি অনুযায়ী, সরকার নির্মাণ খাতে সংস্কারের ঘোষণা দেওয়ার পরও গ্যাট্টো বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পরিশোধ পেয়েছেন। দুর্নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জিওফ্রে ওয়াটসন তার তদন্ত প্রতিবেদনে গ্যাট্টোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে “চাঁদাবাজির র্যাকেট” বলে উল্লেখ করেছেন।
যদিও মিক গ্যাট্টো তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে নির্মাণ খাতের আর্থিক অনিয়ম তদন্তে গঠিত পুলিশের বিশেষ ইউনিট টাস্কফোর্স হক তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরে অভিযোগ দায়ের ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভিক্টোরিয়ার লেবার সরকার বহু আগেই জানত যে সিএফএমইইউর বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে বিগ বিল্ড প্রকল্পগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া ফাঁস হওয়া সরকারি নথিতে দেখা যায়, মেট্রো টানেল প্রকল্পে কাজ করা একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইউনিয়নের চাপে প্রয়োজন না থাকা শ্রমিক নিয়োগ দিতে বাধ্য হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত প্রায় ১৯৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যয় হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইউনিয়নের দাবি মেনে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিল।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জাসিন্তা অ্যালান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তার ভাষায়, “ভিক্টোরিয়া পুলিশ ইতোমধ্যে ৯৩টি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং লেবার হায়ার অথরিটি বাড়তি ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্মাণ খাতের ১৬৪টি লাইসেন্স বাতিল করেছে। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দিয়েছি।”
তবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, এত পদক্ষেপের পরও যদি দুর্নীতি চলতেই থাকে, তাহলে বর্তমান ব্যবস্থা কতটা কার্যকর। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির যেকোনো তথ্য-প্রমাণ ভিক্টোরিয়া পুলিশের কাছে দেওয়া উচিত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করবে।
এদিকে দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ জিওফ্রে ওয়াটসন, সাবেক ভিক্টোরিয়ান ওমবাডসম্যান ডেবোরাহ গ্লাস এবং সাবেক আইবিএসি প্রধান রবার্ট রেডলিচসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই কেলেঙ্কারির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে রয়্যাল কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
কিন্তু জাসিন্তা অ্যালান সেই দাবি নাকচ করে বলেন, রয়্যাল কমিশন গঠন করলে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান আসবে না। বরং চলমান তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ বিলম্বিত হবে।
তিনি বলেন, “রয়্যাল কমিশন মানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘসূত্রতা। বর্তমানে পুলিশ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যে কাজ করছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট সরকারের আমলে ২০১৪ সালে ট্রেড ইউনিয়ন খাত নিয়ে একটি রয়্যাল কমিশন হয়েছিল।
অন্যদিকে মেট্রো টানেল প্রকল্পে প্রায় ২০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাসিন্তা অ্যালান বিষয়টিকে মূলত মুদ্রাস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির ফল বলে ব্যাখ্যা করেন।
তবে এক সাংবাদিক তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, এটি সাধারণ ব্যয় বৃদ্ধি নয়; বরং দুর্নীতিগ্রস্ত ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের চাপিয়ে দেওয়া অপ্রয়োজনীয় নিয়োগ এবং চাঁদাবাজির ফল।
এর জবাবে অ্যালান স্বীকার করেন যে ন্যায্য মজুরি ও দুর্নীতির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তবে তিনি পুনরায় বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জানানো উচিত এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সাংবাদিকরা জানতে চান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনো নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে সিএফএমইইউর সঙ্গে সমঝোতা না করলে ভবিষ্যতে বিগ বিল্ড প্রকল্পে কাজ না পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল কি না।
এ অভিযোগও দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন জাসিন্তা অ্যালান। তবে এ বিষয়ে সরকারি নথিপত্র তিনি নিজে যাচাই করেছেন কি না, সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে শুধু বলেন, “এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au