ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ই. জিন ক্যারল। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন,৩০ জুন- লেখক ও সাবেক কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তীতে মানহানির দায়ে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকছে এবং ট্রাম্পকে ক্যারলকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।
সোমবার (২৯ জুন) এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ না করায় ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের ফেডারেল জুরির দেওয়া রায় কার্যকর থাকবে। সর্বোচ্চ আদালত তাদের এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় সাধারণ একটি প্রক্রিয়া।
২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি বোর্ড রায় দেয়, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক বদলানোর কক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। একই সঙ্গে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে “প্রতারণা” বলে উল্লেখ করে এবং ক্যারলকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে তার মানহানি করেন ট্রাম্প। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত ক্যারলের পক্ষে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে।
শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ট্রাম্প। তার দাবি, বিচার চলাকালে এমন কিছু প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা জুরিদের সিদ্ধান্তকে অন্যায্যভাবে প্রভাবিত করেছে।
গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পের সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, নতুন করে বিচার করার প্রয়োজন নেই। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। তবে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করায় নিম্ন আদালতের রায়ই চূড়ান্তভাবে বহাল থাকল।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ই. জিন ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আজকের সিদ্ধান্ত আবারও নিশ্চিত করল যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি করেছেন। ধারাবাহিকভাবে তার সব আপিল ব্যর্থ হয়েছে এবং নিজের কর্মকাণ্ডের দায় এড়ানোর প্রচেষ্টার এখানেই সমাপ্তি ঘটল।”
অন্যদিকে ট্রাম্পের আইনজীবী দলের এক মুখপাত্র দাবি করেন, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষায়, “আমেরিকান জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে রয়েছে। তারা ডেমোক্র্যাটদের অর্থায়নে পরিচালিত তথাকথিত ক্যারল মামলাসহ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব ধরনের হয়রানির অবসান চায়।”
আপিল আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আরও যুক্তি দেন, ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘অ্যাকসেস হলিউড’ ভিডিওটি জুরিদের সামনে উপস্থাপনের অনুমতি দেওয়া উচিত হয়নি। ওই ভিডিওতে ট্রাম্পকে নারীদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করতে শোনা যায়। তাদের দাবি, ওই ভিডিও জুরিদের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে ক্যারলকে নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্যের জেরে দায়ের করা পৃথক আরেকটি মানহানির মামলায়ও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন আদালত। ওই মামলায় একটি জুরি তাকে ৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্পের আপিল গত সেপ্টেম্বর মাসে খারিজ করে ফেডারেল আপিল আদালত।
তবে আদালতের রায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী করলেও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দণ্ডবিধিতে সংজ্ঞায়িত ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। পরে ২০২২ সালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ওই অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেওয়ায় তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সেই মামলাগুলোতে একের পর এক আদালতের রায় ক্যারলের পক্ষেই বহাল থাকল।
সুত্রঃ বিবিসি