ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল ৬ গাড়ি
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মহাসড়কে…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবাজুড়ে আবারও ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পুরো দেশ অন্ধকারে ডুবে যায়। দেশটির কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানি-সংক্রান্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে বিদেশ থেকে তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ইলেক্ট্রিকা দে কিউবা জানায়, বিকেলের পর থেকেই পুরো দ্বীপজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সরকারিভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও এটি চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউট। এর আগে গত সোমবারও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে কিউবায় পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সংখ্যা বেড়ে চারটিতে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মার্চ মাসেও দুবার পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।
কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামো ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে, শীতল যুদ্ধের সময় নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে এসব স্থাপনা এখন প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিদেশি জ্বালানি সরবরাহের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর ফলে দেশটিতে বিদেশ থেকে তেল আমদানির পথ আরও সীমিত হয়ে যায়।
কিউবা ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেশটি কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক অবরোধের প্রভাব মোকাবিলা করছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ায়। সমালোচকদের অভিযোগ, কিউবার সরকার দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভিন্নমত দমনের অভিযোগে অভিযুক্ত। এসব কারণ দেখিয়ে ওয়াশিংটন দেশটির বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা আর কিউবাকে তেল বা অর্থ সরবরাহ করতে পারবে না। এরপর ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, যা কিউবার জ্বালানি সংকটকে আরও গভীর করে।
পরে ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন। এরপর থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মার্চ মাসে কেবল একটি রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার দেশটিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত কিউবা তার মোট তেলের চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ নিজস্ব উৎপাদন থেকে পূরণ করতে পেরেছে। বাকি ৬০ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
মানবাধিকার ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যুৎ ঘাটতির পাশাপাশি পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে কিউবা। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট শক্তি ব্যবহারের মাত্র ১৮ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে মোট শক্তির অন্তত এক-চতুর্থাংশ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au