ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল ৬ গাড়ি
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মহাসড়কে…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে টানা সাত দিন ধরে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার। গত ৫ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে, নৌকাডুবি ও পাহাড়ধসে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তিন লাখের বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনায় রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের ১২ বছর বয়সী মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম। একই দিন সকালে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায় আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে পুষ্প।
একই দিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া কক্সবাজার সদর, পেকুয়া এবং উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে গত সাত দিনে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা। এছাড়া কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার, যিনি মাতামুহুরী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন, বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষকে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি হিসাবে কক্সবাজার জেলায় বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জনে। এর মধ্যে জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬১ জন।
তিনি আরও জানান, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারিভাবে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী ও পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au