তৃতীয় দফায় রাতভর ইরানে মার্কিন হামলা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই- ইরানের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফায় রাতভর সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলার পর এই অভিযান চালানো হয়। রোববার (১২ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি কার্যত বাতিলের ঘোষণা দিলেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ইরান জানিয়েছে, অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলকারী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এ ঘটনার জেরে কোনো ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজটি ছিল সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে আইআরজিসির দাবি, কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত নৌপথ’ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি, এ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের নতুন যেকোনো সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হয়। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে হামলা নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপরও পড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আগাম নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স