তাবিজের কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত…
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই- বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ঘটনাটি ফুটবলের বাইরেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষে উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা সমর্থকদের দেওয়া “লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস” (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার হাতে তুলে ধরেন। আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জকে ইসলাস মালভিনাস নামে উল্লেখ করে এবং দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের হয়নি, কিন্তু ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।” তিনি আরও বলেন, দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে যুক্তরাজ্য সবসময় সমর্থন করে এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ফিফার কাছে ঘটনাটি তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল খেলোয়াড়দের এই আচরণকে “সম্পূর্ণ অনুচিত” বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, রাজনীতি ও ফুটবলকে আলাদা রাখা উচিত এবং বিষয়টি এখন ফিফার বিবেচনার বিষয়।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী, স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট দল বা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে জরিমানা বা অন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির। রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের ঘটনায় অতীতেও বিভিন্ন দেশকে জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে।
তবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যানারটি আর্জেন্টিনার জনগণের দীর্ঘদিনের জাতীয় অনুভূতির প্রতিফলন এবং খেলোয়াড়রা আবেগের বশেই এটি প্রদর্শন করেছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এ ঘটনায় ফিফা জরিমানা করতে পারে।
আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের সমর্থন জানিয়ে লেখেন, “মালভিনাস আর্জেন্টিনার। স্টেডিয়ামে ব্যানার নিতে বাধা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এই বিশ্বাস আমাদের রক্তে ও হৃদয়ে রয়েছে।”
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ বলেন, “আমরা আর্জেন্টিনার জনগণকে হতাশ করতে পারতাম না।” অন্যদিকে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানান, ফকল্যান্ডস যুদ্ধ আর্জেন্টিনার ইতিহাসের বেদনাদায়ক একটি অধ্যায় এবং সেই স্মৃতি তাদের কাছে এখনো গভীর আবেগের বিষয়।
ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার দ্বীপপুঞ্জে অভিযান চালালে দুই দেশের মধ্যে ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য এবং তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন। যুদ্ধ শেষে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাজ্যের হাতেই থাকে।
এদিকে আগামী ২০ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ফিফা এই ব্যানার বিতর্কে তদন্ত শুরু করে কি না এবং কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে ফুটবল বিশ্বে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au