তাবিজের কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত…
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন–এর নেতা সিনেটর পলিন হ্যানসন অভিবাসন এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। যুক্তরাজ্যের উগ্র ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন (আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন)–এর একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ১৯৭৩ সালে হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতি বাতিল হওয়ার পর থেকেই দেশটির অভিবাসন সমস্যা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ওই পডকাস্টে পলিন হ্যানসন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গফ হুইটল্যাম ১৯৭৩ সালে হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতির অবসান ঘটানোর পর বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরজা খুলে যায়। তার দাবি, ইতালি, জার্মানি ও পোল্যান্ড থেকে আসা অভিবাসীরা অস্ট্রেলিয়ার সমাজে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে অনেক অভিবাসী কেবল সামাজিক কল্যাণ সুবিধা এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে আসতে শুরু করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইন্স্যুরেন্স স্কিম (এনডিআইএস)–এর অপব্যবহারকারীদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। যদিও তিনি পরে বলেন, শুধু মুসলিমরাই নয়, অনেক অস্ট্রেলিয়ানও এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছেন।
তবে হ্যানসনের এই দাবির সঙ্গে একমত নয় অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটির স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক বাটলার বলেন, এনডিআইএস সুবিধাভোগীদের ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান তার কাছে নেই। তিনি বলেন, “পলিন হ্যানসন এই তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন, তা আমি জানি না। আমার কাছে এমন কোনো তথ্য কখনো উপস্থাপন করা হয়নি।”
ন্যাশনাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইন্স্যুরেন্স এজেন্সি (এনডিআইএ)–এর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় আট লাখ এনডিআইএস অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগতভাবে বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব মাত্র ১০ শতাংশ, যা তাদের জনসংখ্যার তুলনায় কম।
পডকাস্টে পলিন হ্যানসন মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, কোরআনে “আল্লাহ ব্যবস্থা করবেন” বলা হয়েছে এবং এর ফলে মুসলিম পরিবারগুলো বেশি সন্তান নিচ্ছে। এরপর তিনি বলেন, “যে ব্যবস্থা করছে, সেটি আসলে করদাতাদের অর্থ।”
এদিকে হ্যানসনের যুক্তরাজ্য সফরও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সফরের সময় তিনি টমি রবিনসনের সঙ্গে লন্ডনের কাছের লুটন শহর ঘুরে দেখেন। টমি রবিনসন যুক্তরাজ্যে উগ্র ডানপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত এবং হামলা, জালিয়াতি ও আদালত অবমাননাসহ একাধিক অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। সমালোচনা সত্ত্বেও হ্যানসন বলেছেন, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে তার মেয়ে লি হ্যানসন ওয়ান নেশন দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারিবারিক সম্পর্কের কারণে নয়, যোগ্যতা প্রমাণ করেই তাকে নেতৃত্বে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতি ছিল ১৯০১ সালের পর থেকে কার্যকর একগুচ্ছ বৈষম্যমূলক আইন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপের বাইরে থেকে অভিবাসন সীমিত রাখা এবং অস্ট্রেলিয়াকে প্রধানত শ্বেতাঙ্গ সমাজ হিসেবে বজায় রাখা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধীরে ধীরে এই নীতি শিথিল হয় এবং ১৯৭৩ সালে গফ হুইটল্যাম সরকারের সময় এর শেষ বৈষম্যমূলক বিধানগুলো বাতিল করা হয়।
হ্যানসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিবাসন, ধর্মীয় বৈচিত্র্য এবং সামাজিক কল্যাণনীতি নিয়ে তার বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au