তাবিজের কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত…
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই- এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক ও ক্ষোভের জেরে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা আবারও রাজপথে নেমেছে। সাম্প্রতিক এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা সময়সূচি নিয়ে নয়; বরং তা শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি, ন্যায্যতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীলতার দাবিতে রূপ নিয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন, পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে ভুল এবং কয়েকটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। চট্টগ্রাম, ঢাকা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন।
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। রাজধানীতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, শিক্ষা ভবনের সামনে এবং পরে শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জেন জি বা তরুণ প্রজন্ম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও সংগঠিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নাগরিক অধিকার ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি মত প্রকাশ করছে।
এইচএসসি পরীক্ষার ঘটনাগুলো অনেক শিক্ষার্থীর কাছে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার প্রতীক হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার আয়োজন এবং প্রশ্নপত্রের ত্রুটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন–এর পদত্যাগ দাবি করেন। পরে তারা রাত ১০টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন এবং পরদিন সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দেন।
“আমরা জনগণের ভোগান্তি চাই না, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভূগোল প্রথমপত্র পরীক্ষায় ভুল করে দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরে কেন্দ্র সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনাও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ নেই; প্রয়োজনে তারা সরাসরি রাজপথেও নামছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ইস্যুতে জেন জি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা গেছে, যা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে।
এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। প্রশ্নপত্র ত্রুটির তদন্ত, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পরীক্ষানীতি পুনর্বিবেচনা এবং শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখাচ্ছে, এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে শুরু হওয়া অসন্তোষ কেবল একটি শিক্ষাবিষয়ক সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণেরও প্রতিফলন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au