চিরন্তন ডাক
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই: বাএই ডাক সত্যের, এই ডাক জাগরণের, এই ডাক ভালোবাসা আর দেশপ্রেমের। রক্তে কেনা মাটি ডাকছে আয় কাছে, ঘরে বসে থাকার সময় আজ…
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই: চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম (আলিফ) হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। আদালত তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন।
শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ভার্চুয়ালি আদালতে অংশ নেন। অন্য আসামিদের কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা এদিন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষ পুনরায় সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। আদালত পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
একই শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। ফলে তিনি আগের মতোই কারাগারে থাকবেন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।ছবি: সংগৃহীত
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ৩৮ জনকে আসামি করা হয়।
আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সমর্থক ও আইনজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কারাগারে ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি অবৈধভাবে আটক রয়েছেন এবং একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে তার জামিন বিবেচনা করা উচিত।
তাদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন আটক রাখা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা আদালতের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকারের নীতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au