চাঁদপুরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. অরুণ ভূঁইয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন…
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষা সহায়ক কর্মীরা বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের ধর্মঘটে যাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ বেতন প্রস্তাব শিক্ষক ইউনিয়নের সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করায় এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর আগে গত মার্চে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী ও সমর্থক মেলবোর্নের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকা (সিবিডি) থেকে রাজ্য পার্লামেন্ট পর্যন্ত মিছিল করেছিলেন। মে মাসে শিক্ষক ইউনিয়ন সরকার সঙ্গে নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হতে যাচ্ছে বলে মনে করেছিল। তবে পরে ইউনিয়নের সদস্যরা সেই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করায় আবারও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
কেন প্রত্যাখ্যান করা হলো বেতন প্রস্তাব?
ভিক্টোরিয়ার শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা সহায়ক কর্মীদের নতুন এন্টারপ্রাইজ বার্গেইনিং এগ্রিমেন্ট (ইবিএ) নিয়ে আলোচনা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছিল। প্রথমদিকে অস্ট্রেলিয়ান এডুকেশন ইউনিয়ন (AEU) তিন বছরে ৩৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানায়। তাদের দাবি ছিল, ভিক্টোরিয়ার শিক্ষকদের বেতন দেশের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কম। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মার্চে ১৩ বছরের মধ্যে প্রথম বারের মতো রাজ্য জুড়ে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়। পরে মে মাসে সরকার ও ইউনিয়নের মধ্যে একটি নীতিগত সমঝোতা হয়, যেখানে শিক্ষকদের পদ ভেদে চার বছরে ২৮ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী বিহীন কর্মদিবস (Student-free days) বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। কিন্তু জুনে ইউনিয়নের সদস্যরা ভোট দিয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, অতিরিক্ত কর্মচাপ কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই, স্কুলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়নি এবং শিক্ষা সহায়ক কর্মীদের জন্য বেতন বৃদ্ধি সন্তোষজনক নয়। এরপর সরকার নতুন প্রস্তাব দেয়। এতে শিক্ষা সহায়ক কর্মীদেরও চার বছরে ২৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক বৈঠকের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়। গত সপ্তাহতে ৫০ হাজারের বেশি ইউনিয়ন সদস্য এ প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন। তবে এটিও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়।
কেন সর্বশেষ প্রস্তাবও বাতিল হলো?
ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ৫১ শতাংশের বেশি সদস্য সরকারের নতুন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। AEU ভিক্টোরিয়া শাখার সভাপতি জাস্টিন মুলালি বলেন, শিক্ষকরা চার বছরের পরিবর্তে তিন বছরের চুক্তি এবং কর্মচাপ কমাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ চান। তার অভিযোগ, ভিক্টোরিয়াকে ‘শিক্ষার রাজ্য’ বলা হলেও শিক্ষকদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে যে অর্থায়ন ও জনবল প্রয়োজন, সরকার তা দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সরকারি স্কুলগুলোতে এখনো শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং সেই ঘাটতির পুরো চাপ বহন করছেন কর্মরত শিক্ষকরা।
ধর্মঘটের প্রভাব কী হবে?
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘটের কারণে ভিক্টোরিয়া জুড়ে সরকারি স্কুল গুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে। অনেক স্কুল ইতোমধ্যে অভিভাবকদের জানিয়েছে, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া বা শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধান করা সম্ভব হবে না। কিছু স্কুল সীমিত পরিসরে তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা রাখতে পারে। বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সেদিন বাসায় থেকে স্বশিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের ওই দিন শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কাজ বা নির্দেশনা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এদিনও ইউনিয়নের সদস্যরা মেলবোর্নের বার্ক স্ট্রিট মল থেকে পার্লামেন্ট হাউস পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করবেন।
সরকারের প্রতিক্রিয়া: ভিক্টোরিয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বেন ক্যারল শিক্ষক ইউনিয়নের ভোটের ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, সরকারের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভিক্টোরিয়ার শিক্ষক ও শিক্ষা সহায়ক কর্মীরা দেশের সর্বোচ্চ বেতন প্রাপ্তদের মধ্যে থাকতেন এবং তাদের কর্ম পরিবেশও সবচেয়ে ভালো হতো। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে থাকা উচিত এবং অভিভাবকদের যেন শিশুদের দেখাশোনার জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তি বা এক দিনের আয় হারানোর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ভোটের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না এবং আলোচনার জন্য সরকারের দরজা এখনো খোলা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষক ইউনিয়নের নেতৃত্বকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
সুত্র: এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au