মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জন্তর মন্তরে চলমান এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড় অবস্থান নিয়েছেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) গঠন করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মোদি লিখেছেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ এটি।”
তিনি আরও বলেন, “যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে আন্দোলনকারীরা শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকেও প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতার কারণেই লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিক্ষোভের কারণে আবারও বন্ধ ১৬ মেট্রো স্টেশন
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে আবারও ১৬টি মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)।
হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে হাজার হাজার অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিকল্প পরিবহনের জন্য অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ বাসে, আবার কেউ ট্যাক্সিক্যাব ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
গত দুই মাস ধরে জন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বুধবারও একই ১৬টি মেট্রো স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রায় আট ঘণ্টা পর সেগুলো চালু করা হলেও বৃহস্পতিবার সকালে আবারও একই স্টেশনগুলো বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ডিএমআরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকহাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক জানিয়েছে, মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাসস্টপগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক অফিসগামী ও শিক্ষার্থী সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ট্যাক্সি ও অ্যাপভিত্তিক যানবাহনের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সৃষ্ট ক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এবং সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অবস্থানকে ঘিরে দিল্লির পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি এবং সরকারের পদক্ষেপের দিকে এখন নজর দেশজুড়ে।
সূত্র: এমটিআই