খুবির মেয়েদের হলের ওয়াশরুমে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগ, ক্যান্টিনকর্মীকে আটক
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে একটি মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায়…
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েকটি আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এএফএর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তদন্তের অংশ হিসেবে তাপিয়াসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তাদের মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে। তবে এসব দাবি সরাসরি নাকচ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
এর আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছিল, বিশ্বকাপ চলাকালেই ক্লদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এবার আর্জেন্টিনার দুটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইনফোবে ও ক্লারিন আরও বিস্ফোরক দাবি সামনে আনে।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এফবিআই পরিচালিত এক অভিযানে এএফএর কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হয়। তদন্তের মূল লক্ষ্য ছিল সংস্থাটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং সেসব চুক্তির আর্থিক কাঠামো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় তদন্ত কর্মকর্তারা ক্লদিও তাপিয়া ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাপিয়াকে আগামী ৩০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
তদন্তের কেন্দ্রে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাপিয়ার কাছে ট্যুরপ্রডএন্টার (TourProdEnter) নামের ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। ব্যবসায়ী হাভিয়ের ফারোনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পন্সরশিপ, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন এবং টেলিভিশন সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে এএফএর একচ্ছত্র বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।
ক্লারিন-এর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে জাতীয় দলের স্পন্সরদের কাছ থেকে কোটি কোটি মার্কিন ডলার মায়ামির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলেও সেই অর্থ এএফএর আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণীতে দেখানো হয়নি। এছাড়া আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।খবর প্রকাশের পর আর্জেন্টিনার ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
এএফএর স্পষ্ট অস্বীকৃতি
তবে এসব দাবির জবাবে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।এএফএ জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে নথির কথা বলা হচ্ছে, সেটি সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া কিংবা সংস্থাটির কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর নামে জারি করা কোনো সমন নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট থেকে যে সমন জারি হয়েছে, সেটি একটি তৃতীয় পক্ষের উদ্দেশে। ওই পক্ষকে গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং এএফএর কর্মকর্তাসহ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
এএফএর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লদিও তাপিয়া বা পাবলো তোভিগিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করেছে, এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একইভাবে তাদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার খবরও পুরোপুরি অসত্য।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আদালতের নথিতে এএফএর সভাপতি বা কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আইনি ব্যবস্থা, আদালতে হাজিরার নির্দেশ, সম্পদ জব্দ কিংবা অন্য কোনো বাধ্যবাধকতার উল্লেখ নেই।
সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করে এএফএর কর্মকর্তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
সূত্র: এএইচএস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au