বন্দুক হামলায় নিহত।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল শহরের জনপ্রিয় খাবার উৎসব ‘বাইট অব সিয়াটল’-এ বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি ছোট শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় উৎসবস্থলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে হাজারো মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় প্রায় ৬টার দিকে সিয়াটলের ঐতিহাসিক স্পেস নিডল টাওয়ারের পাশের সিয়াটল সেন্টার এলাকায় চলমান উৎসবের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুলির খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা খালি করে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
সিয়াটল অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে হারবারভিউ মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের মুখপাত্র সুসান গ্রেগ জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আহতদের মধ্যে একটি ছোট শিশু, ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী রয়েছেন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এস্তান ওয়াকোনাবো জানান, তিনি তার বান্ধবীকে নিয়ে একটি ছবি তোলার বুথের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ কেউ তাকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘুরে দেখেন, চারদিকে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তিনি পরপর গুলির শব্দ শুনতে পান।
ওয়াকোনাবো বলেন, মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করছিল, একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছিল এবং অনেকেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। এমনকি শিশুদের ঠেলাগাড়িও উল্টে যাচ্ছিল। তিনি দ্রুত তার বান্ধবীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে তিনি একাধিক আহত ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার কারণ এবং বন্দুকধারীর পরিচয় উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সিয়াটল সেন্টার এবং আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
‘বাইট অব সিয়াটল’ শহরের অন্যতম বৃহৎ খাবার উৎসব। ১৯৮২ সালে শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী আয়োজনে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন ধরনের খাবার, পানীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এই উৎসবে যোগ দেন। তবে এবারের উৎসব প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনায় শোক ও আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
সুত্রঃ এপি