যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল শহরের জনপ্রিয় খাবার উৎসব ‘বাইট অব সিয়াটল’-এ বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি…
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ২০০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১ হাজার ৪০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংক্রমণের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।
রোববার (২৭ জুলাই) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়, ডিআর কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে নতুন করে প্রায় এক হাজার মানুষকে আক্রান্ত করেছে। চলতি বছরের ১৫ মে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। এটি ইবোলা ভাইরাসের বিরল বুন্ডিবুগিও ধরন, যার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মোট আক্রান্তের প্রায় ৯০ শতাংশই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশে শনাক্ত হয়েছেন। দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডা সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি বর্তমানে সংক্রমণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভাইরাসটি দেশটির পাঁচটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে দুটি নতুন প্রদেশও রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিমানসেবা ইউএনএইচএএস জানিয়েছে, দুর্গম ও সংঘাতপ্রবণ এলাকায় চিকিৎসক, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠিয়ে দ্রুত সংক্রমণ শনাক্তের কাজও অব্যাহত রয়েছে। তবে উন্নত পরীক্ষার মাধ্যমে আগের তুলনায় আরও বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে স্বাস্থ্যখাতের সংকট। স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতনের দাবিতে চলমান ধর্মঘটের কারণে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রচেষ্টা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ানো এই ভাইরাস মারাত্মক রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
গত পাঁচ দশকে আফ্রিকা মহাদেশে ইবোলা ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, বুন্ডিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক গবেষকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত রোগ শনাক্ত, আক্রান্তদের বিচ্ছিন্ন রাখা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au