এ শহর গ্রাম ছিল একদিন
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: এ শহর গ্রাম ছিল একদিন, সময়ের স্রোতে হারালো তার চেনা জমিন। ইট-পাথরের দেয়াল উঠলো ধীরে ধীরে, যেখানে একসময় ছিল শাপলা-শামুক নদীর তীরে।…
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: বাংলাদেশে একজন অভিজ্ঞ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (অবস্টেট্রিশিয়ান) হিসেবে কাজ করতেন রাবেয়া। কিন্তু উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার পর তার পেশাগত জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। চিকিৎসক হিসেবে নয়, বর্তমানে তিনি তাসমানিয়ার লন্সেস্টনের একটি শিল্প লন্ড্রিতে বালিশের কভার ও হাসপাতালের লিনেন ভাঁজ করার কাজ করছেন। তার এই বাস্তবতা অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ অভিবাসীদের যোগ্যতার স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে চলমান সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এসবিএস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আড়াই লাখের বেশি দক্ষ অভিবাসী রয়েছেন, যারা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক বা অন্যান্য লাইসেন্সনির্ভর পেশায় উচ্চশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের যোগ্যতার তুলনায় অনেক নিচের স্তরের কাজে নিয়োজিত আছেন। অথচ একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনবলের উল্লেখযোগ্য সংকট রয়েছে।
রাবেয়া জানান, অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় তিনি প্রথমে হাসপাতাল, জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) ক্লিনিক, প্রশাসনিক পদ, ফার্মেসি এবং স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে কোথাও সাক্ষাৎকারের ডাকও পাননি। তার ধারণা, স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতার অভাবই চাকরি না পাওয়ার অন্যতম কারণ।
বর্তমানে তিনি ল্যাবরেটরি মেডিসিনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করছেন। আশা করছেন, অতিরিক্ত এই যোগ্যতা ভবিষ্যতে তাকে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যখাতে কাজ করার সুযোগ এনে দেবে। এরই মধ্যে জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ব্লুলাইন লন্ড্রি নামের একটি সামাজিক উদ্যোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৫০ জন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী।
অভিবাসীদের দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। অ্যাক্টিভেট অস্ট্রেলিয়াস স্কিলস নামের একটি প্রচারণা বলছে, বিদেশি ডিগ্রি ও পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি পাওয়ার বর্তমান প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল, জটিল, দীর্ঘ এবং অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক।
এই পরিস্থিতির উন্নয়নে ২০২৫ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার চার বছরে ৮ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগের একটি মাইগ্রেশন স্কিলস রিকগনিশন রিফর্ম কর্মসূচি ঘোষণা করে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ বিদেশে অর্জিত পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করবে।
তবে ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, ঘোষিত সংস্কার যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার বিদেশি পেশাজীবী শুধুমাত্র জটিল স্বীকৃতি প্রক্রিয়া, স্থানীয় অভিজ্ঞতার অভাব এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজেদের পেশায় কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাবেয়ার মতো অসংখ্য দক্ষ অভিবাসীর অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়; এটি অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজার, অভিবাসননীতি এবং দক্ষ জনশক্তির কার্যকর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।
সুত্রঃ SBS Language
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au