৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা…
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: ইউরোপজুড়ে চলতি বছরের দাবানল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, চলতি মৌসুমের দাবানল পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে এর প্রভাব নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিশেষ করে ফ্রান্স ও স্পেনে তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিব জানিয়েছেন, এবারের দাবানলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইইউর জরুরি সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অগ্নিনির্বাপক বিমান, হেলিকপ্টার এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফ্রান্সে সাতটি অগ্নিনির্বাপক বিমান ও চারটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনে মোতায়েন করা হয়েছে ছয়টি অগ্নিনির্বাপক বিমান এবং তিনটি বিশেষায়িত দমকল দল।
ফ্রান্সের জিরোন্দে অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া বিশাল ‘মেগা দাবানল’ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারাও কাজ করছেন। ভয়াবহ এই দাবানলে ইতোমধ্যে প্যারিস শহরের আয়তনের প্রায় চার গুণ এলাকা পুড়ে গেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আগুনের বিস্তারের গতি ও ব্যাপকতা ইউরোপের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে।

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ পরিস্থিতি।ছবিঃ সংগৃহীত
অন্যদিকে দক্ষিণ স্পেনে সাম্প্রতিক দাবানলে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তীব্র গরম, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন ঘণ্টায় প্রায় ৬ কিলোমিটার বেগে ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ সাধারণ অবস্থায় দমকল বাহিনী ভূমি থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ মিটার গতিতে অগ্রসর হওয়া আগুন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ফলে এবারের দাবানল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ দ্রুত বিস্তার লাভ করায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দাবানলের ঝুঁকি থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ফ্রান্স ও স্পেনে ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে সপ্তাহজুড়ে উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে আবহাওয়া আরও শুষ্ক থাকবে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। মঙ্গলবার পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
স্পেনের পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্তত আগামী রোববার পর্যন্ত এই চরম গরম ও দাবানলের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au