৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান।
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাপান সরকার।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো জেলাকে কেন্দ্র করে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রের তলদেশে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতায় উৎপত্তি হওয়ায় ভূমিকম্পের কম্পন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর জেএমএ জানায়, এর প্রভাবে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ দশমিক ২৮ ফুট উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানতে পারে। এ কারণে উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি জেলায় ভূমিকম্প ও সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্প-পরবর্তী আফটারশকের আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ২৫ জুনও জাপানে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেবারও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার বা আগ্নেয় মেখলা অঞ্চলে অবস্থিত। এই ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে দেশটিতে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই জাপান ও এর আশপাশের অঞ্চলে সংঘটিত হয়। ফলে উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা, কঠোর নির্মাণনীতি এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
সূত্র : এএফপি