গুলশান থেকে গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি)…
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই: বাংলাদেশে মংলা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার পর এবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রস্তাবিত খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পেও আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। এ লক্ষ্যে একটি চীনা প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং প্রকল্পটির সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের সুযোগ মূল্যায়ন করেছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বিমানবন্দর প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, চীনের আগ্রহ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম করতে পারে।
বাংলাদেশের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে খান জাহান আলী বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে মংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরটি মংলা বন্দরের কার্যক্রমকে পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীন মংলা বন্দর সুবিধা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন চট্টগ্রামে ভারতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া জমি বাতিল করে। এর আগে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত বাংলাদেশের মংলা বন্দরের একটি টার্মিনালের পরিচালন অধিকার পেয়েছিল, যা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক যৌথ উদ্যোগের ফলে মংলা বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের ভূমিকা আরও জোরালো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অবকাঠামো ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, প্রকল্পটি নিয়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং তারা এতে বিনিয়োগ ও কাজ করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রায় তিন দশক আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় এই বিমানবন্দর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। পরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের অভাবে প্রকল্পটির কাজ আর এগোয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পর্যটন বিকাশের জন্য এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au