বাংলাদেশ

সার্কের অচলাবস্থা কাটাতে বাধা কোথায়?

  • 1:16 pm - July 30, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১২৬ বার
সার্কের অচলাবস্থা কাটাতে বাধা কোথায়?ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) আবারও সক্রিয় করার দাবি নতুন করে জোরালো হলেও ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিরোধই সংস্থাটির পুনরুজ্জীবনের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে সার্ককে কার্যকর করার উদ্যোগ বাস্তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

সম্প্রতি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। এর আগে একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছিল বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার উঠে আসছে দুটি প্রশ্ন। ভারত কি সার্ককে আবার সক্রিয় করতে আগ্রহী, আর পাকিস্তান কি সেই প্রক্রিয়াকে সহজ হতে দেবে?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সার্ক প্রতিষ্ঠার মূলনীতি ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং ভৌগোলিক আয়তনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে। ফলে সংস্থাটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই ভারতের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

সার্কের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংস্থার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করতে হয়। এই নীতিই বর্তমানে সার্কের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও জম্মু ও কাশ্মীরের উরি শহরে জঙ্গি হামলার পর সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয় ভারত। পরে বাংলাদেশ, ভুটান ও আফগানিস্তানও অংশগ্রহণ না করায় সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে আর কোনো সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার সবাই জানে কোন দেশ সার্কের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। যদিও বিবৃতিতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, দিল্লির বক্তব্যে পাকিস্তানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

গত এক দশকে ভারতের আঞ্চলিক কূটনৈতিক কৌশলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। নয়াদিল্লি এখন সার্কের পরিবর্তে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন), বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমসটেক) এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান সদস্য না থাকায় বিমসটেককে ভারত একটি কার্যকর বিকল্প আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে।

অন্যদিকে ছোট সদস্য রাষ্ট্রগুলো সার্ককে পুনরায় সক্রিয় দেখতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, মালদ্বীপ একটি কার্যকর সার্কের মাধ্যমে ভারত ও চীনের প্রভাবের বাইরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা জোরদারের চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতিতেও নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি, প্রায় ১৪ বছর পর ঢাকা-ইসলামাবাদ সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে আরও স্বাধীন ও সক্রিয় ভূমিকা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

পাকিস্তান অবশ্য সার্ক অচল হয়ে থাকার জন্য ভারতের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারত রাজনৈতিক কারণে সার্কের সর্বসম্মতির নীতিকে ব্যবহার করছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিকে সংস্থার কার্যক্রম স্থবির রাখার অজুহাত হিসেবে তুলে ধরছে। পাকিস্তানের মতে, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিরোধও আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালের উরি হামলার পর নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত উদ্বেগ সার্ক অচল হওয়ার তাৎক্ষণিক কারণ হলেও বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। কারণ, এতে দিল্লি পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে বিকল্প আঞ্চলিক জোট এবং দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সার্ক পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। কারণ, নতুন করে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য সব সদস্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান অচলাবস্থায় ভারতের সম্মতি পাওয়ার সম্ভাবনা কম, অন্যদিকে পাকিস্তানের নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।

ফলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপসহ ছোট সদস্য দেশগুলো সার্ককে পুনরায় কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিলেও ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার এই আঞ্চলিক জোটের ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চিতই থেকে যাবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

সুত্রঃ এনডিটিভি

এই শাখার আরও খবর

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও গুড়িয়ে দিল বিএনপির নেতাকর্মীরা

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগ্রিনি…

৩৪ লাখ শিশুকে দ্রুত টিকা দেওয়ার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় আগের টিকাদান কর্মসূচির সময় টিকা না পাওয়া প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা…

পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চুক্তি

শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই…

বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের অবস্থান শক্ত হচ্ছে, তারেক রহমান আগুন নিয়ে খেলছেন: সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের  সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশ…

টানা তিন শিরোপার পর কোচিং ছাড়ার ভাবনা ফাগানের

অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ (এএফএল) ক্লাব ব্রিসবেন লায়ন্সকে টানা তৃতীয়বার প্রিমিয়ারশিপ জেতানোর পর ২০২৭ সালে কোচ হিসেবে থাকবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন ক্রিস ফাগান।…

পাকিস্তানে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বোমা হামলা, নিহত ১১

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশের একটি তল্লাশি চৌকিতে বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au