বিশ্ব

অলিম্পিকে ফিরতে পুতিনকে দিতে হলো চড়া মূল্য

  • 3:05 pm - July 31, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৬৭ বার
ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই:  প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ফেরার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সদস্যপদ পুনর্বহালের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে ইউক্রেনের দখলকৃত কয়েকটি অঞ্চলের ক্রীড়া সংস্থাকে নিজেদের অলিম্পিক কাঠামো থেকে সরিয়ে দিয়েছে রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটি। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির স্থগিত সদস্যপদ পুনর্বহাল করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কার্যক্রমে রাশিয়ার ফেরার পথ আবারও উন্মুক্ত হয়। সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, শেষ পর্যন্ত সাধারণ বুদ্ধিরই জয় হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইউক্রেন। বুধবার দেশটির জাতীয় অলিম্পিক কমিটি সুইজারল্যান্ডের লোজানে অবস্থিত ক্রীড়াবিষয়ক সালিশি আদালতে (সিএএস) আইওসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ইউক্রেনের দাবি, সদস্যপদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত অলিম্পিক সনদের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রাশিয়া এই ঘটনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও এর পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নিশ্চিত হওয়ার পরই সদস্যপদ পুনর্বহাল করে যে, রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির অধীনে আর ইউক্রেনের দখলকৃত দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের কোনো ক্রীড়া সংস্থা নেই।

এই চারটি অঞ্চলকে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল রাশিয়া। এরপর থেকেই অঞ্চলগুলো যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে। তবে অলিম্পিকে ফিরতে গিয়ে রাশিয়া এসব অঞ্চলের ক্রীড়া সংস্থাকে নিজেদের অলিম্পিক কাঠামো থেকে বাদ দেয়, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে কার্যত স্বীকার করে নেওয়ার শামিল যে অঞ্চলগুলো ইউক্রেনের জাতীয় অলিম্পিক কমিটির আওতাধীন।

এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার ভেতরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির যুদ্ধপন্থী রাজনীতিক, সামরিক ব্লগার ও বিশ্লেষকদের অনেকেই এটিকে ক্রেমলিনের ভূখণ্ডগত দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন।

যুদ্ধপন্থী সাংবাদিক দিমিত্রি স্তেশিন বলেন, শুধু অলিম্পিকে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার জন্য রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটি কার্যত দেশের দাবি করা ভূখণ্ডের ক্রীড়া কাঠামো ছেড়ে দিয়েছে।

রাশিয়ার ক্রীড়ানীতি নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের পর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির শর্ত মেনে নিরপেক্ষ পতাকার অধীনে রুশ ক্রীড়াবিদদের ২০২৪ সালের অলিম্পিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। তখনও সরকারকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করার অভিযোগ তুলেছিলেন যুদ্ধপন্থী ভাষ্যকাররা।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া শুধু প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, জাতীয় ভাবমূর্তি ও বৈশ্বিক প্রভাবেরও প্রতীক। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে আসা ক্রেমলিনের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেনের সাবেক গ্রেকো-রোমান কুস্তি চ্যাম্পিয়ন ফেভজি মামুতভ বলেন, সোভিয়েত আমল থেকেই পদক, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতকে রাষ্ট্রীয় শক্তি ও প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পুনরায় সক্রিয় হওয়া মস্কোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে যুদ্ধপন্থী জনপ্রিয় টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘ইনফোওয়ার’ এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নাশকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এটি শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতার শামিল এবং রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাশিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী মিখাইল দেগতিয়ারেভও। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া এই মন্ত্রীকে অনেকেই ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতার’ জন্য দায়ী করছেন।

সামরিক ব্লগার দিমিত্রি কোনানিখিন প্রশ্ন তুলেছেন, যদি রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটি দোনেৎস্ক, লুহানস্ক ও ক্রিমিয়ার ক্রীড়া কার্যক্রমের দায়িত্বই না রাখে, তাহলে এটিকে কীভাবে বিজয় বলা যায়? একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছে আরেক যুদ্ধপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘ভেরুম রেগনুম’, যারা সরাসরি জানতে চেয়েছে, ‘ক্রিমিয়া কার?’

সমালোচনার জবাবে ক্রীড়ামন্ত্রী মিখাইল দেগতিয়ারেভ বলেন, ২০২৪ সালেই রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটি এসব আঞ্চলিক অলিম্পিক কাউন্সিল বিলুপ্ত করেছিল। তাই বর্তমানে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তবে সমালোচকদের দাবি, বাস্তবতা যাই হোক, অলিম্পিকে ফেরার জন্য যে সমঝোতা করা হয়েছে, তা রাশিয়ার ঘোষিত ভূখণ্ডগত অবস্থানকে দুর্বল করেছে। ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে রাশিয়ার অংশ ঘোষণা করে বলেছিলেন, এসব অঞ্চলের মানুষ চিরদিনের জন্য রাশিয়ার নাগরিক এবং রাশিয়া কখনোই তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। কিন্তু সর্বশেষ অলিম্পিক-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর রাশিয়ার ভেতরেই অনেকের মতে, সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের স্পষ্ট সাংঘর্ষিকতা তৈরি হয়েছে।

এই শাখার আরও খবর

দরপতনের আশঙ্কা ভারতীয় রুপির

বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের চাপে আগামী কয়েক মাসে আরও দর হারাতে পারে ভারতীয় রুপি। সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাটির…

সৌদি আরবে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বজ্রসহ বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে…

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক জনপ্রতিনিধি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এবং কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি…

স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু, চার দিন লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস

পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হওয়ার চার দিন পর মারা গেছেন তিন সন্তানের জননী ইখতারা সরকার (৩০)। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকার জাতীয়…

ব্যবসায়ী নাসিরের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, বাসা ছেড়ে আত্মগোপনে চিত্রনায়িকা পরীমণি

ভাস্কর দত্ত :  ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার…

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শত শত শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au