শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অর্থনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডিজেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকলে দুই দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রা, জ্বালানি ভর্তুকি এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য অনেক এশীয় অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আর্থিক সুরক্ষা বা সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে নতুন করে জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা এলে এর প্রভাব দ্রুত খাদ্য, পরিবহন ও বিদ্যুতের ব্যয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—উভয় দেশই আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডিজেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে বেড়ে গেলে দেশ দুটির অর্থনীতি বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
ইএসএসইসি বিজনেস স্কুল এশিয়া-প্যাসিফিকের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক জামুস লিম বলেন, নিকট ভবিষ্যতে উভয় দেশই উল্লেখযোগ্য মূল্যস্ফীতির চাপের সম্মুখীন হতে পারে। তাঁর মতে, জ্বালানি মজুতের সীমিত সক্ষমতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্থানীয় বাজারে তুলনামূলকভাবে দ্রুত পৌঁছাবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে উদ্বেগের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাসজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলজাত পণ্যের দামে দুই অঙ্কের বৃদ্ধি দেখা গেছে।
১ জুলাই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ১৮ মার্কিন ডলার। শুক্রবার এশিয়ার বাজারে তা প্রায় ২১ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও প্রায় একই হারে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে।
সংকটের প্রভাব এখন শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচলের পথেই সীমাবদ্ধ নেই। মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় দামিয়েত্তা বন্দরে গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার পর সুয়েজ খালসংলগ্ন নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অবশিষ্ট পথগুলোর একটি এই অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় আরও বাড়লে বাংলাদেশে আমদানি খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বজায় রাখতে সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।
প্রতিবেদনটির মূল মূল্যায়ন হলো, আরেকটি বড় জ্বালানি-মূল্যের ধাক্কা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুদ্রা, ভর্তুকি ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থব্যবস্থায় নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
–সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au