শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: ইসরায়েলকে সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষ জেনারেল। পেন্টাগনে পাঠানো একটি গোপন বার্তা ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানকে ঘিরে নেওয়া সামরিক ও নৌ অবরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ইসরায়েলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এসব যুদ্ধজাহাজে অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি রয়েছে, যা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনীর বড় একটি অংশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। ফলে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেনারেল গ্রিনকিউইচ তার বার্তায় বলেন, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কারণে ইউরোপে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা ও দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কৌশলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে বর্তমানে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ইরানি পদক্ষেপের জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সামরিক অবরোধ জোরদার করে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একসময় এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও সর্বাত্মক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই মূল্যায়ন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au