রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউসে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ইহুদিবিদ্বেষী বিক্ষোভকারীদের কার্যত সুরক্ষা দিয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন এখন দেশটির ইহুদিবিদ্বেষ ও সামাজিক সংহতি বিষয়ক রয়্যাল কমিশনের তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। শুনানিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, ওই সময় পুলিশের পদক্ষেপের কারণে অনেক ইহুদি অস্ট্রেলীয় মনে করেছিলেন যে তারা নিজেদের শহরের কেন্দ্রেও নিরাপদ নন।
শুনানিতে নিউ সাউথ ওয়েলস জিউইশ বোর্ড অব ডেপুটিজ-এর সভাপতি ডেভিড ওসিপ বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার মাত্র দুই দিন পর আয়োজিত ওই বিক্ষোভ ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য গভীর মানসিক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার দাবি, পুলিশ ইহুদি অস্ট্রেলীয়দের সেদিন সিডনির কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিল, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল।
ডেভিড ওসিপ বলেন, এমন পরামর্শ কার্যত এই বার্তাই দিয়েছে যে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না। তার মতে, এতে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অনেকের মনে হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে ইহুদিবিদ্বেষী স্লোগান, হুমকি এবং উসকানিমূলক আচরণ ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাবোধকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
অন্যদিকে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ-এর পক্ষে আইনজীবী ডমিনিক টুমি দাবি করেন, বিক্ষোভের মূল আয়োজকেরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের একপর্যায়ে কিছু বহিরাগত উসকানিদাতা যোগ দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে পুরো আয়োজনের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।
শুনানিতে আরও উঠে আসে, বিক্ষোভের পর এক পুলিশ কর্মকর্তা প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ-এর এক সংগঠক জশ লিস-কে বার্তা পাঠিয়ে কর্মসূচি পরিচালনার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তবে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাকেনা বলেন, তিনি ওই বার্তার বিষয়ে আগে অবগত ছিলেন না।
পিটার ম্যাকেনা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আগে থেকেই জানত যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামপন্থী সংগঠন হিজবুত তাহরীর-এর সদস্যরা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সন্ত্রাসী হামলার তথ্য না থাকায় পুলিশ সম্ভাব্য জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল।
তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের মাথার ওপর দিয়ে একটি ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করা হয়েছিল। পরে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলার পর এ ধরনের ঘটনা আর ঘটেনি। তার দাবি, টেলিভিশনের সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্রে ঘটনাটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রয়্যাল কমিশনের সহকারী আইনজীবী রিচার্ড ল্যাঙ্কাস্টার বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও কোনো বিক্ষোভে সহিংসতায় উসকানি, বর্ণবিদ্বেষ বা ইহুদিবিদ্বেষ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, প্রতিবাদের আড়ালে বিদ্বেষমূলক আচরণকে বৈধতা দেওয়া যায় না।
শুনানিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের প্রতি সংহতি জানিয়ে সিডনি অপেরা হাউস-এ ইসরায়েলের পতাকার রঙে আলোকসজ্জা করা হয়েছিল। কিন্তু একই সময়ে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ এবং সেখানে শোনা কিছু ইহুদিবিদ্বেষী স্লোগান অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও গভীর করে তোলে।
তবে পিটার ম্যাকেনা জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশকে সবসময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে হয়। কোনো বক্তব্য বা স্লোগান কারও কাছে আপত্তিকর বা অগ্রহণযোগ্য মনে হলেও, তা যদি আইনের সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে পুলিশকে আইন অনুযায়ী সেই সমাবেশ পরিচালনায় সহায়তা করতে হয়।
সিডনি অপেরা হাউসের ওই বিক্ষোভ এবং তৎকালীন পুলিশি ভূমিকা নিয়ে রয়্যাল কমিশনের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করণীয় সম্পর্কে নতুন নীতিমালা বা সুপারিশ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুত্রঃ নিউজ.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au