বগুড়ার এরুলিয়ায় বাসচাপায় নিহত ৬, আহত অন্তত ১৫
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: বগুড়ার এরুলিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে অন্তত ছয়জন…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে আলোচনা করে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলই এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও দলীয় পর্যায়ে তাকে নিয়েই ইতিবাচক মতামত তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় প্রার্থী দিলেও নির্বাচিত হওয়ার বাস্তব সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করেনি।
গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করেছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, এবার দলটি রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন সক্রিয় ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে দায়িত্ব দিতে চায়। সেই বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সামনে এসেছে। দলের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি যখন রাজনৈতিক চাপ, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে ছিল, তখন দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা, আন্দোলন পরিচালনা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি এবং তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করায় দেশের রাজনীতিতে দলের মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে সময় আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখতে তার অবদান দলীয়ভাবে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, শুধু দলের ভেতরেই নয়, জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন গ্রহণযোগ্য ও পরিমিত রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই রাষ্ট্রপতি পদে তাকে মনোনয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে দলটির ভেতরে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেক নেতা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার পরিচালনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো অভিজ্ঞ নেতার মন্ত্রিসভায় থাকা প্রয়োজন। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে সরকার ও দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের কিছুটা ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। তবে সর্বশেষ দলীয় আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেবেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। আইন অনুযায়ী, যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণ ছাড়াই তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au