দেশে ফিরতে চান সাকিব, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর জবাব ‘আর কোনো সুযোগ নেই’। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
একই সঙ্গে দেশের মাটিতে বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে তার এমন বক্তব্যের পর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তার ভাষ্য, সাকিবকে নিয়ে সরকারের নমনীয়তার সুযোগ আর নেই।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি আনন্দের সঙ্গে দেশে ফিরবেন। আদালতের বিচারসহ যে আইনি প্রক্রিয়াই সামনে আসুক, তিনি সবকিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। নিজের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাকিব দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশে ফেরেননি সাকিব। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
সাকিবের দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘এখন আর কোনো সুযোগ নেই।’ তার দাবি, সাকিব একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পুরোপুরি রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ফিরতে হবে।
আমিনুল হক বলেন, সরকার এতদিন বিষয়টি নমনীয়তা ও সহনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর সেই অবস্থান পরিবর্তনের আর সুযোগ নেই। একজন ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবকে বিবেচনা করেই এতদিন নমনীয়তা দেখানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
রয়টার্সকে সাকিব আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার ভাষায় ‘মিথ্যা’ মামলা গুলো প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছিল। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও কথা বলতে চান বলে জানিয়েছেন সাকিব। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মাটিতে বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন এই অলরাউন্ডার।
তবে সাকিবের দেশে ফেরার ইচ্ছার বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এমন কঠোর বক্তব্য তার প্রত্যাবর্তনের পথকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে রাজনৈতিক অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়া, দুই দিক থেকেই দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন সাকিব।