মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা ‘সঙ্কটজনক’, মৃত্যু হলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কে হবে।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪ দাবি করেছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সঙ্কটজনক’। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোজতবা খামেনেই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের ছেলে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের সময় মোজতবা আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্যেও তার অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।
সম্প্রতি কিছু সূত্র মোজতবা খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবিও করেছে। তবে এসব দাবির কোনোটি এখনো ইরানের সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি। ফলে তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মোজতবা খামেনেইয়ের মৃত্যু হলে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে কে বসবেন, তা নিয়েও ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশটির সংবিধানে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।
ইরানের সংবিধানের ১১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা মারা গেলে, পদত্যাগ করলে, অপসারিত হলে অথবা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়লে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদ দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে।
এই পরিষদে থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় আইনজ্ঞ। বর্তমানে এই তিন পদে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় আইনজ্ঞ।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই তিন সদস্যের পরিষদ সর্বোচ্চ নেতার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা পরিচালনা করবে। ফলে মোজতবা খামেনেইয়ের মৃত্যু বা দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো একক নেতা ক্ষমতায় বসবেন না।
এরপর নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম নির্বাচন করবে। সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, এই পরিষদের সদস্যরা ইসলামি আইন ও ধর্মীয় জ্ঞানে বিশেষজ্ঞ এবং সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন প্রবীণ ধর্মীয় নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির নাম রয়েছে। কুমের ধর্মীয় মহলে প্রভাবশালী আয়াতুল্লাহ হাশেম হোসেইনি বুশেহরির নামও আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মহসেনি-এজেইয়ের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেইনির নাতি হাসান খোমেইনির নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হবেন, তা নির্ভর করবে বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর। পরিষদ কোনো একজনকে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদই দায়িত্ব পালন করে যাবে।
বর্তমানে মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা দাবি ও জল্পনা থাকলেও ইরানের সরকারি অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু বা উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে তাঁর চিকিৎসা ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ইরানসহ আন্তর্জাতিক মহল।
সুত্রঃ আনন্দবাজার