তুরস্কে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়ালোভা প্রদেশে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার আগে পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে আসায় তিনি…
মেলবোর্ন, ১৩ আগস্ট: চাঁদের মাটিতে ভবিষ্যতে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এই ‘মুন বেস’ প্রকল্পে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোকে সহযোগিতার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত ৫ ও ৬ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল স্পেস জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরই নাসার মুন বেস কর্মসূচিতে ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়ে আমন্ত্রণের তথ্য সামনে আসে। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ দুই দেশের মহাকাশ সহযোগিতাকে আরও গভীর করতে পারে।
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। চাঁদের এই ঘাঁটি ভবিষ্যতে মঙ্গলসহ আরও দূরবর্তী মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
চাঁদের পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রযুক্তি এবং মানুষের জীবনধারণের উপযোগী ব্যবস্থা নিয়েও গবেষণা চালানো হবে। এই সহযোগিতার সঙ্গে নাসার নেতৃত্বে ২০২০ সালে গঠিত ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’-এরও সম্পর্ক রয়েছে। চাঁদ, মঙ্গল ও অন্যান্য মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য বিভিন্ন নীতি ও নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে এই চুক্তিতে।
ভারত ২০২৩ সালের ২১ জুন আর্টেমিস অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে ২৭তম স্বাক্ষরকারী দেশ হয়। যদিও ২০২৫ সালের সরকারি নথি অনুযায়ী, সে সময় ভারত নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির সরাসরি সদস্য ছিল না। মুন বেস প্রকল্পে ইসরোকে আমন্ত্রণ জানানো হলে দুই দেশের মহাকাশ সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরু নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতাও নাসার এই আগ্রহের অন্যতম কারণ। চন্দ্রযান-৩ মিশনের মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে সফলভাবে অবতরণ করে। ফলে দুর্গম চন্দ্রাঞ্চলে অবতরণ, ভূপ্রকৃতি বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনায় ভারতের অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজে লাগতে পারে।
এদিকে ভারত ‘স্পেস ভিশন ২০৪৭’-এর আওতায় চন্দ্রযান, গগনযান এবং ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশনের মতো উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে। নাসার মুন বেস প্রকল্পে সহযোগিতার সুযোগ পেলে এসব কর্মসূচিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন আলোচনায় বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে গবেষণার তথ্য, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মহাকাশ অভিযানের জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে গবেষণা ও অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি—ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতা মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au