দুই দশকে কলকাতায় বড় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে দুই শতাধিক মানুষের
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- সরকার বদলেছে একাধিকবার। বামফ্রন্টের পর তৃণমূল কংগ্রেস, এরপর বিজেপির শাসন। কিন্তু কলকাতায় বড় অগ্নিকাণ্ডের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। গত দুই দশকে শহরটিতে…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে ঢাকা। তবে এই অনুরোধ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতকে তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং ২০১৬ সালে সংশোধিত চুক্তিতে একদিকে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের সাধারণ বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, অন্যদিকে কিছু পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রাখা হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনও এ প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর। ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের ঘটনায় তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়। রায়ের পর বাংলাদেশ আবারও তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানায়। সর্বশেষ জুলাই ২০২৬-এ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করছে।
তাহলে কি ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকার করতে পারে? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, পারে। তবে ইচ্ছামতো বা শুধু রাজনৈতিক কারণে নয়। প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করতে হলে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি অথবা ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনে নির্ধারিত কোনো কারণ প্রযোজ্য হতে হবে।
বাংলাদেশ ভারতের কাছে কী চাইছে?
বাংলাদেশ দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছিল ঢাকা। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর সেই দাবি আবারও জোরালো করা হয়। ভারত বাংলাদেশের অনুরোধ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, এটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এটি কেবল ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয় নয়। বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি ব্যবহার করে এমন একজন ব্যক্তিকে ফেরত চাচ্ছে, যিনি একটি প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত, বিচারাধীন অথবা দণ্ডিত হয়েছেন।
২০১৩ সালের চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদে দুই দেশ প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত, বিচারাধীন, দোষী সাব্যস্ত অথবা আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এই বাধ্যবাধকতা চুক্তির অন্যান্য শর্তের অধীন।
২০১৬ সালের সংশোধনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ করা হয়। তবে দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে চুক্তির ১০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দণ্ড ও সাজার সনদসহ অতিরিক্ত নথি দিতে হয়।
প্রত্যর্পণ কি বাধ্যতামূলক?
চুক্তিতে প্রত্যর্পণের একটি সাধারণ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এটি শর্তহীন নয়।
চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণ হবে ‘এই চুক্তির বিধান সাপেক্ষে’। অর্থাৎ কোনো অনুরোধ পাওয়ার পর ভারতকে চুক্তির প্রত্যর্পণ না করার বিধানগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিধান হলো ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে রাজনৈতিক অপরাধের ব্যতিক্রমের কথা বলা হয়েছে, এবং ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে কিছু পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও প্রযোজ্য। ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইনের বিধানগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অপরাধের যুক্তি কি কাজে আসতে পারে
চুক্তির ৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অপরাধ রাজনৈতিক চরিত্রের হলে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
শেখ হাসিনা একজন সাবেক রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও রায় এসেছে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে। তাঁর পক্ষ থেকে বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। এসব বিষয় প্রত্যর্পণ নিয়ে আইনি যুক্তির অংশ হতে পারে।
তবে শুধু ব্যক্তি একজন রাজনৈতিক নেতা বা মামলাটি রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে হয়েছে, এ কারণে অপরাধটি চুক্তির অর্থে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ হয়ে যায় না।
চুক্তির ৬(২) অনুচ্ছেদে বেশ কিছু গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, হত্যাকাণ্ড, গুরুতর শারীরিক আঘাত, প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে বিস্ফোরণ ঘটানো, বিস্ফোরক তৈরি বা রাখা, অপহরণ, জিম্মি করা এবং হত্যায় উসকানিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধ।
ফলে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে শুধু ‘রাজনৈতিক মামলা’ বলা হলে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে না। কোন কোন অপরাধে তাঁকে দণ্ডিত করা হয়েছে এবং সেসব অপরাধ চুক্তির কোন ধারার আওতায় পড়ে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ মামলা হয়নি, এমন যুক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ
চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের আরও কিছু কারণ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করা যাবে না যদি তিনি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে, মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে প্রত্যর্পণ করা অন্যায় বা নিপীড়নমূলক হবে। এর মধ্যে অপরাধের তুচ্ছ প্রকৃতি, দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়া এবং অভিযোগটি ন্যায়বিচারের স্বার্থে সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়নি, এমন পরিস্থিতিও রয়েছে।
শেখ হাসিনার মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া, অনুপস্থিতিতে বিচার এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মামলার সূত্রপাতের বিষয়গুলো তাই ভারতের কাছে আইনি মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। তবে এসব বিষয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যর্পণ ঠেকিয়ে দেয় না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বা তাঁর পক্ষকে চুক্তিতে নির্ধারিত মানদণ্ডে বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুদণ্ড কি প্রত্যর্পণে বাধা
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের কারণে প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি আরও সংবেদনশীল হয়েছে। তবে ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে এমন কোনো বিধান নেই যে, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হলে ভারত অবশ্যই তাকে প্রত্যর্পণ করতে পারবে না।
অর্থাৎ শুধু মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেই ভারতের জন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো আইনত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায় না।
তবে মৃত্যুদণ্ডসহ মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি ‘অন্যায় বা নিপীড়নমূলক’ প্রত্যর্পণের যুক্তিতে বিবেচিত হতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যর্পণ নির্দেশিকাতেও মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার নিশ্চয়তার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
তবে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তির মতো সরাসরি নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিতে মৃত্যুদণ্ডকে স্বতন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় প্রত্যর্পণ-প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ‘মৃত্যুদণ্ড আছে বলেই ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে পারবে না’ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
ভারতের নিজস্ব আইন কী বলে
ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন চুক্তির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আইনে কিছু পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া স্থগিত বা প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের অনুরোধে কাউকে প্রত্যর্পণ করা সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভারতে তার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।
অর্থাৎ ভারতকে বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনার সময় শুধু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ আইন ও প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি বর্তমানে কার্যকর চুক্তিগুলোর তালিকায় রয়েছে।
শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধের ক্ষেত্রে ভারতকে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগ ও দণ্ডের আইনি ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো ভারতীয় আইনেও প্রত্যর্পণযোগ্য কি না। দ্বিতীয়ত, মামলাগুলো রাজনৈতিক অপরাধের ব্যতিক্রমের আওতায় পড়ে কি না। তৃতীয়ত, বিচারপ্রক্রিয়া ও অভিযোগের পরিস্থিতি চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘অন্যায় বা নিপীড়নমূলক’ প্রত্যর্পণের মানদণ্ডে পড়ে কি না।
এ ছাড়া যেহেতু শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে দণ্ডিত হয়েছেন, তাঁর দণ্ড ও সাজা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথিও প্রত্যর্পণ অনুরোধের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। চুক্তির ১০(৪) অনুচ্ছেদে দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দণ্ড ও সাজার সনদ এবং সাজা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সম্পর্কিত তথ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এখন ভারতের অবস্থান কী
এখন পর্যন্ত ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। জুলাই ২০২৬-এ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করছে।

শেখ হাসিনা। ছবি : রয়টার্স
অর্থাৎ বিষয়টি এখনো ভারতের আইনি ও প্রশাসনিক বিবেচনাধীন।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি ঢাকাকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার একটি শক্ত আইনি ভিত্তি দিয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তিটি ভারতকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও দিয়েছে। রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ, বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা, অভিযোগের সৎ উদ্দেশ্য এবং প্রত্যর্পণ অন্যায় বা নিপীড়নমূলক হবে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে কোনো একটি কারণ দেখিয়েই ভারতের সিদ্ধান্ত পূর্বানুমান করা যায় না। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের অনুরোধে থাকা নথি, অভিযোগ ও দণ্ডের প্রকৃতি এবং ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি ও ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনের অধীনে ভারতের কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ওপর।
সূত্রঃ আউটলুক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au