বল হাতেও চমকালেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- ব্যাট হাতে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। এবার বল হাতেও নিজের সামর্থ্যের…
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ার সব রাজধানী শহরেই এখন একটি ইউনিটের ভাড়া একজন একক কর্মজীবীর মধ্যমা হাতে পাওয়া আয়ের অর্ধেকেরও বেশি হয়ে গেছে। আবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এভরিবডিজ হোমের নতুন প্রতিবেদনে দেশটির ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকটের এই চিত্র উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের ‘প্রাইসড আউট’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় সাপ্তাহিক ভাড়া এখন ৬১৪ ডলার। বছরে ৭০ হাজার ডলার আয় করা একজন কর্মীর হাতে পাওয়া আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ শুধু ভাড়া পরিশোধেই চলে যাচ্ছে। এই আয় অস্ট্রেলিয়ার ৭৪ হাজার ১০০ ডলারের মধ্যমা আয়ের কাছাকাছি।
এভরিবডিজ হোমের মুখপাত্র মাই আজিজে বলেন, ভাড়াটিয়াদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে। তার মতে, এখন তুলনামূলকভাবে বেশি আয় করা ব্যক্তিরাও আবাসন ব্যয়ের চাপ থেকে মুক্ত নন। বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করা ব্যক্তিকেও আয়ের এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভাড়ার পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানী শহরগুলোতে বছরে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার আয় করা একজন ব্যক্তি গড় ভাড়া দিতে নিজের আয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যয় করছেন। ফলে দেশের কোথাও ভাড়াটিয়ারা আবাসন ব্যয়ের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত নন।
প্রতিবেদনে ভাড়ার দিক থেকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকার তালিকায় রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, গোল্ড কোস্ট ও সিডনি। এরপর রয়েছে সানশাইন কোস্ট ও পার্থ।
৭০ হাজার ডলার বার্ষিক আয় করা একজন কর্মীর ক্ষেত্রে সিডনির মধ্যমা ভাড়া তার সাপ্তাহিক আয়ের প্রায় ৬৯ শতাংশ নিয়ে নেয়। এমনকি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ভাড়ার রাজধানী অ্যাডিলেডেও আয়ের অর্ধেকের বেশি ভাড়ায় চলে যায়।
মাই আজিজে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিডনি অস্ট্রেলিয়ার আবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও বর্তমানে পার্থ ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য এলাকাতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। একইভাবে গোল্ড কোস্টেও প্রতি বছর ভাড়া বাড়ছে। সেখানে বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেও একা থাকা একজনের পক্ষে গড় ভাড়া বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত ‘প্রাইসড আউট’ প্রতিবেদনের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় গড় সাপ্তাহিক ভাড়া ৪৮ ডলার বেড়েছে। অর্থাৎ একজন ভাড়াটিয়াকে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনের হিসাবে, বছরে ৪০ হাজার ডলার আয় করা একজন কর্মীর জন্য এই বাড়তি ভাড়া বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৪ সপ্তাহের আয়ের সমান। ৭০ হাজার ডলার আয় করা ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা ৩ দশমিক ১ সপ্তাহের আয়, আর ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৬ সপ্তাহের আয়ের সমান।
এভরিবডিজ হোম জানিয়েছে, চলতি বছরের বাজেটে আবাসন নীতিতে পরিবর্তনের কারণে মধ্যমা ভাড়া সপ্তাহে প্রায় ২ ডলার বাড়তে পারে বলে সরকার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে মাই আজিজের দাবি, বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ায় ভাড়া প্রায় প্রতি বছরই ১০ শতাংশ করে বাড়ছে।
তিনি বলেন, ভাড়াটিয়াদের আয় সীমিত হওয়ায় অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া বৃদ্ধি তাদের জীবনযাত্রার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। তাই ফেডারেল সরকার এবং রাজ্য ও টেরিটরি সরকারগুলোকে ভাড়াটিয়াদের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তবে নেতিবাচক গিয়ারিং এবং ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এভরিবডিজ হোম। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ আবাসন ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য করতে সহায়তা করতে পারে এবং বাড়ি কেনার জন্য সঞ্চয় করা ভাড়াটিয়াদের কিছুটা সুবিধা দিতে পারে।
সংগঠনটি আগামী ১৫ বছরে ৯ লাখ ৪০ হাজার সরকারি ও কমিউনিটি আবাসন নির্মাণের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়া থাকা অবস্থায় কতবার এবং কত পরিমাণ ভাড়া বাড়ানো যাবে, তার সীমা নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ বন্ধ করারও আহ্বান জানিয়েছে।
মাই আজিজের মতে, গত চার দশকে বিশেষ করে ফেডারেল সরকার আবাসন খাতে অর্থায়ন ও সক্রিয় ভূমিকা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে এবং বিষয়টি বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। অথচ যেসব দেশ আবাসন সংকট মোকাবিলায় সফল হয়েছে, সেসব দেশে সরকার আবাসন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই অস্ট্রেলিয়া সরকারকেও আবাসন খাতে আবারও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au