বল হাতেও চমকালেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- ব্যাট হাতে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। এবার বল হাতেও নিজের সামর্থ্যের…
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন একটি চার্জ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের অর্থ পরিশোধ ও হিসাব নিষ্পত্তির জন্য প্রস্তাবিত এই চার্জ কার্যকর হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করতে দেরি হলে ভারতের একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ রুপি করে চার্জ নেওয়া হবে। এটি বিদ্যুতের মূল দামের বাইরে অতিরিক্ত একটি খরচ হিসেবে যুক্ত হবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ লেনদেন পরিচালনা, গ্রিড কার্যক্রম এবং অর্থ পরিশোধের হিসাব নিষ্পত্তির মতো সেবার খরচ মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হবে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং এনটিপিসি বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিগম লিমিটেডের মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি বা এসএনএ চুক্তি সইয়ের বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ বিষয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের জন্য এসএনএ চার্জের প্রস্তাব করেছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০১ রুপি চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবেদনের পর তা অর্ধেক কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চার্জ বিদ্যুতের প্রকৃত মূল্য নয়। বরং বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারণ, মিটারের তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ করা বিদ্যুতের সঙ্গে ব্যবহারের পরিমাণের হিসাব মিলিয়ে দেখা এবং গ্রিড-সংক্রান্ত লেনদেন পরিচালনার মতো প্রশাসনিক ও কারিগরি সেবার জন্য এটি নেওয়া হবে। ফলে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তুলনামূলকভাবে কম হবে বলে মনে করছেন তারা।
প্রস্তাবিত এসএনএ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আমদানি করা বিদ্যুতের অর্থ পরিশোধ ও হিসাব নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ আমদানি করার কারণে আলাদা আলাদা বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হিসাব নিষ্পত্তি করতে হয়।
নতুন ব্যবস্থায় এনটিপিসি বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিগম লিমিটেড সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নোডাল সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এতে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পৃথকভাবে বিলিং ও হিসাব নিষ্পত্তির প্রয়োজন কমে আসবে।
ভারত ইতোমধ্যে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যেও এই ধরনের এসএনএ ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
বিভিন্ন চুক্তি ও ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে ভারত থেকে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের।
এর মধ্যে এনটিপিসি বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিগম লিমিটেডের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় এনটিপিসির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়।
এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সরাসরি সেম্বকর্প থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ।
প্রস্তাবিত নতুন চার্জ ও এসএনএ চুক্তি মূলত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ লেনদেনের অর্থ পরিশোধ, হিসাব নিষ্পত্তি ও গ্রিড ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হলে বাংলাদেশে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au