বল হাতেও চমকালেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- ব্যাট হাতে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। এবার বল হাতেও নিজের সামর্থ্যের…
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে সোমবার তেহরানে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। একই দিনে ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকেও এই পদক্ষেপের আওতায় আনা হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানিয়েছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে কোনো তেল রপ্তানি হতে দেবে না তারা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নতুন সতর্কতা জারি করেছে তেহরান।
ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
ইরানের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। পাকিস্তান জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাঁর এই সফর।
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুনির ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
রয়টার্সের কাছে দুটি পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসিম মুনিরকে ফোন করেছিলেন। আরেকটি সূত্রের দাবি, ওই ফোনে ট্রাম্পের মূল অনুরোধ ছিল ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।
‘সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অভিযান’
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার বিকেলে ইরানবিষয়ক নতুন কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান প্রায় ধারাবাহিকভাবে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।
রোববার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট লিখেছেন, সোমবার ভোর থেকে শুরু হবে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’, যা কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান হবে।
নতুন পদক্ষেপের বিস্তারিত না জানালেও তিনি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, যেসব দেশ ‘ভীত’ হয়ে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, তাদের এর পরিণতি বিবেচনা করা উচিত।
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরান জানিয়েছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার মতো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চললে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়েও এক ফোঁটা তেল রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশের অংশগ্রহণ বা সহযোগিতাকে ইরান যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে।
এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও নতুন সতর্কতা জারি করেছে। তেহরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালিটি দিয়ে চলাচল না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করেছে এমন ৪৫টি জাহাজের তালিকাও করা হয়েছে।
লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর
এর মধ্যেই সোমবার সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের পশ্চিমে লোহিত সাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
আঘাতের পর জাহাজটির প্রধান ডেকে আগুন ধরে যায়। তবে হামলাটি কে চালিয়েছে, তা জানায়নি ইউকেএমটিও।ইরানের মিত্র হুথিরা গত মাসে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের দিকে সরিয়ে নেওয়া তেল রপ্তানি ঠেকানো হবে।
চীনের আপত্তি
ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল কোনো সমস্যার সমাধান করে না।
বেইজিং বলেছে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের বন্দর অবরোধের কারণে ইতিমধ্যে চীনে ইরানের তেল সরবরাহ কমেছে। তবে চীন কয়েক বছর ধরে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন অতীতেও বহুবার ইরান সরকারের পতনের কথা বলেছে, কিন্তু সেসব ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি।
অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ইরানে উদ্বেগ
প্রকাশ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।
তাঁদের আশঙ্কা, আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে, নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হতে পারে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
ইরান ইতিমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের বাড়তি ব্যয় যুক্ত হয়েছে।
এদিকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দর সোমবার নতুন রেকর্ড নিম্নে নেমেছে। জানুয়ারির তুলনায় রিয়ালের মূল্য প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারিতে মুদ্রার দরপতন ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে বিক্ষোভ হয়েছিল, যা পরে কঠোরভাবে দমন করা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অপরের সামরিক বাহিনীর ওপর সরাসরি বিমান হামলা হয়নি। তবে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক মুখোমুখি আলোচনা হয়েছিল জুনে। এরপরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে ঘিরে হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাতে পারছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল করে দেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র-রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au