বল হাতেও চমকালেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- ব্যাট হাতে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। এবার বল হাতেও নিজের সামর্থ্যের…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ শীর্ষ মুসলিম ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ বদরউদ্দিন হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দামেস্কের চতুর্থ অপরাধ আদালত সহিংসতায় উসকানি, হত্যাকাণ্ডকে ধর্মীয় বৈধতা দেওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হত্যাকাণ্ড দীর্ঘায়িত করার মতো একাধিক অভিযোগে হাসুনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির দায়িত্ব পালন করেন হাসুন। ২০২৫ সালের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রায় এক মাস আগে তিনি আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এসেছিলেন। গত ২৫ জুন তার বিচার শুরু হয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসাদ সরকারের আমলে সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানকে ধর্মীয় বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাসুন এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
দামেস্কের চতুর্থ অপরাধ আদালতের বিচারক ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, হাসুন বেসামরিক এলাকায় ব্যারেল বোমা হামলার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এসব বোমা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে এবং বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালত আরও জানায়, ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে হাসুন সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে পূর্ব আলেপ্পোর বেসামরিক বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।
বিচারকেরা বলেন, হাসুন যেসব এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল, সেসব এলাকা ‘নির্মূল ও ধ্বংস’ করার জন্য সেনাবাহিনীকে উৎসাহিত করেছিলেন। এ ছাড়া ইদলিবের বাসিন্দাদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়।
হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে হাসুনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং হত্যাকাণ্ড দীর্ঘায়িত করার দায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে দেওয়া এসব সাজা একত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হয়েছে বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত আরও জানিয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় হাসুন কোনো সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমার সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি সরকারি কোষাগার থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তার অর্থ ও সম্পত্তি রাষ্ট্রের অধীনে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর সিরিয়ার বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব স্বাধীনতার আন্দোলনের শুরু থেকেই গুরুত্ব বহন করে আসছে।
২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় সাবেক শাসনামলের অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। এই বিচারপ্রক্রিয়ায় হাসুনের মামলাকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেটের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে, তাদের অনেকেই আসাদ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা অথবা আসাদ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
তার মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তার দুই চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। তবে হাসুনই প্রথম সুন্নি মুসলিম ধর্মীয় নেতা, যিনি এই বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন এবং এখনও সিরিয়ার কিছু অংশে তার সামাজিক সমর্থন রয়েছে।
তবে হাসুনের সমর্থকদের একাংশ দাবি করছে, তার বক্তব্যকে অনলাইনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের অনেকেই তার জন্য আরও কঠোর, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছিলেন।
আসাদ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হন। সেই সময় বেসামরিক জনগণের ওপর বিমান হামলা, ব্যারেল বোমা এবং অন্যান্য সহিংসতার অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। হাসুনের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় তাই শুধু একজন ধর্মীয় নেতার বিচার নয়, বরং সাবেক আসাদ সরকারের সময় সংঘটিত অপরাধের দায় নির্ধারণের বৃহত্তর বিচারপ্রক্রিয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au