বল হাতেও চমকালেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- ব্যাট হাতে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। এবার বল হাতেও নিজের সামর্থ্যের…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে একসঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশীদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
রায়ে আদালত বলেন, বিচারিক আদালত যেভাবে নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, তাতে প্রতিটি পরিবারের ওপর বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ কারণে তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশীদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশীদ নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। অপর চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, মাদরাসাছাত্র মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং ইফতেখার উদ্দিন রানা।
এ ছাড়া মামলার ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। তারা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, মোহাম্মদ শামীম, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, আবদুর রহিম শরিফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের ও কামরুন নাহার মনি।
যেভাবে নুসরাতকে হত্যা করা হয়
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। অভিযোগের পর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে।
এরপর সিরাজ-উদদৌলার অনুসারীরা তাকে কারাগার থেকে বের করে আনার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে বলে মামলার নথিতে উঠে আসে। পরে কারাগারে সিরাজের সঙ্গে দেখা করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১০ এপ্রিল ২০১৯ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। তার মৃত্যুর ঘটনায় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।
ডেথ রেফারেন্স যায় হাইকোর্টে
নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এটি ১৪০/২০১৯ নম্বর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
মামলাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো। একই সঙ্গে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় তৎকালীন বিচারকের ভূমিকা নিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ দিয়ে তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন উচ্চ আদালত।
নুসরাত হত্যাকাণ্ডের এই রায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইন ও বিচারিক বিবেচনা অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au